Nationwide লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Nationwide লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

দোয়ারাবাজারে পুলিশের অভিযানে পর্ণোবাহী কম্পিউটারসহ আটক ৭

দোয়ারাবাজারে পুলিশের অভিযানে পর্ণোবাহী কম্পিউটারসহ আটক ৭

এম এ মোতালিব ভুঁইয়া: গতকাল দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথাসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজে, যুবসমাজ ধ্বংসের পথে:দোয়ারাবাজারে প্রকাশ্যেই চলছে মোবাইলে পর্নোগ্রাফি ডাউন লোডের ব্যবসা খবর প্রকাশের জের ধরে বুধবার দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস এর নেতৃত্বে বিশেষ  অভিযানে নীল ছবি সম্বলিত ৫টি কম্পিউটার,১টি ল্যাবটব, ২টি হারডডিক্সসহ ৭জনকে আটক করেছে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ।আটককৃতরা হলেন উপজেলার নরসিংপুর বাজারের ব্যবসায়ী রউফ ট্রেডাসের মালিক সোনাইত্যা গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র আব্দুর রউফ(২৩),রহিমের পাড়া নিবাসী মৃত সেকান্দর আলীর পুত্র রবিউল ইসলাম (২২),আরিফ টেলিকমের মালিক নরসিংপুর গ্রামের মৃত আব্দুর ছাত্তারের পুত্র ফরহাদ আলম(২৮),মাদার টেলিকমের মালিক কালাপুশী গ্রামের সফিকুল ইসলামের পুত্র কামরুল ইসলাম(২৩),নোমান টেলিকমের মালিক নরসিংপুর গ্রামের আব্দুল হকের পুত্র তোফাজ্জল হক লিমন(২৩),হারুন টেলিকমের মালিক দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের মৃত সিকান্দর আলীর পুত্র হারুন মিয়া(২২),ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল মোতালিবের পুত্র মো:মারুফ (২৬) । জানা যায়,
দোয়ারাবাজারে মোবাইলে মেমোরি ডাউন লোডের দোকানগুলোতে প্রকাশ্যেই চলছে পর্নোগ্রাফি ডাউন লোডের ব্যবসা। যে কারণে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সের সন্তানদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে অভিভাবক মহল। দেশের অবৈধ এ পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল ভিডিও চিত্র মোবাইলের মেমোরিতে ধারণ ও বিপনণ ব্যবসা প্রতিহত করার লক্ষ্যে  একটি আইন থাকলেও সরকারের প্রনীত এ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে উপজেলার কম্পিউটারের দোকান থেকে দেদাচ্ছে চালানো হচ্ছে অবৈধ অশ্লীল ভিডিও চিত্রের লোড কার্যক্রম। দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর বাজার, বাংলাবাজার,
বগুলাবাজার,মহব্বতপুর বাজার,পশ্চিম বাংলাবাজার,চকবাজার,টেংরাবাজার,টেবলাইবাজার,বালিউড়াবাজার,চাইরগাও বাজার,নাছিমপুর বাজার,আমবাড়ী বাজার,শ্রীপুরপান্ডারগাও নতুন বাজার,মঙ্গল পুর বাজার,দোহালিয়া বাজারসহ প্রায় বাজার, রাস্থার মোড়ে গড়ে উঠেছে  কম্পিউটারে মেমোরি ডাউন লোডের  দোকান। যেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর ফলে শব্দ দুষনে সুধী সমাজের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত বিরম্বনায় পড়তে হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে উপজেলার বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে দিন রাত প্রকাশ্যেই মেমোরি লোড ও সিডি,ডিভিডি রাইটিং কর্মকান্ডের মাধ্যমে সমাজের জন্য ক্ষতিকর নীল ছবির জমজমাট ব্যবসা চলছে।
মাত্র ১০/১৫ টাকার বিনিময়ে খুব সহজেই এসব পর্নো ছবি লোড করতে পারায় দোকান গুলোতে উঠতি বয়সের যুবক ও ছাত্রদের ভীড় লেগেই থাকে।ফলে সমাজের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ মোবাইলের মধ্যে পর্নো ছবি লোড করে দেখছে। যার ফলে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বিপথগামী হচ্ছে। অপরদিকে স্কুল চলাকালে বিভিন্ন বাজারে কম্পিউটার দোকানগুলোতে নীল ছবি দেখানো হচ্ছে। এতে করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পর্নোগ্রাফির দিকে আসক্ত হচ্ছে।উপজেলার সচেতন অভিভাবকগণ মনে করছেন অবৈধ এ পর্নো ছবি ব্যবসার ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গুলোর সকল কম্পিউটার প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে জব্দ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নয়তো দিনে দিনে ধ্বংস হয়ে যাবে তাদের সন্তানদের জীবন।
তারই প্রেক্ষিতে  গতকাল বুধবার দৈনিক হাওরাঞ্চলের কথাসহ বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজের প্রেক্ষিত্বে দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস এর নেতৃত্বে  উপজেলার নরসিংপুর বাজারে  অভিযান  পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধ নীলছবি সম্বলিত ৫টি কম্পিউটার, ২টি হারডডিক্স,১টি ল্যাবটব সহ ৭জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে  দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস,এসআই রাজিব দত্ত,হাবিবুর রহমান,মঞ্জুরুল হক,ডিএসবি এসআই  বদরুল আলম, এএসআই শিবলু মজুমদার, আব্দুর রাজ্জাক।

এ ব্যপারে দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুশীল রঞ্জন দাস বলেন পত্রিকায় খবর পেয়ে উপজেলার নরসিংপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে নীলছবি সম্বলিত কম্পিউটার ল্যাবটব,হারডডিক্স সহ ৭জনকে আটক করেছি তাদের বিরুদ্বে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৭

ধর্মপাশায় বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের কার্যক্রম শুরু

ধর্মপাশায় বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের কার্যক্রম শুরু

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের কার্যক্রম আনুষ্টানিক  ভাবে শুরু হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ১১টায় মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আরিফপুর ও বিকেল ৪টায় ৮নং ওয়ার্ড গলহা গ্রামে এ সদস্য সংগহের কাজ আনুষ্টানিক ভাবে শুরুকরা হয়। সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র সুনামগঞ্জ জেলার যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও শাহ জালাল বিঞ্জান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাধারন সম্পাদক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য মামুন ওর রশীদ শান্তু । সভায় সভাপতিত্ব করেন মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি বাবু বিপ্লব তালুকদার, সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক আবে হায়াত, এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধ্যনগর থানা বিএনপি’র সভাপতি মো. সবুজ মিয়া, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারন সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম, মোহনগঞ্জ পৌর যুবদলে সভাপতি জহিরুজ্জামান খান রনি, মধ্যনগর থানা যুবদলের আহবায়ক কামাল হোসেন। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন যুবদল নেতা ফরিদ মিয়া, ছাত্রদল নেতা হিল্লুল, সাজেদুল হক, মোহনগঞ্জ পৌর শাখা যুবদলের সাধারন সম্পাদক শফিকুল আলম, মধ্যনগর থানা যুবদলের নেতা সানোয়ার যুগ্ন আহবায়ক আলিম, মধ্যনগর থানা বিএনপি’র সদস্য মেহেদী হাসান, ছাত্রদলের আহবায়ক গোলাম সাইফুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সুজন মিয়া প্রমূখ।
প্রধান অতিথি মামুন ওর রশিদ শান্তু বলেন, আজ দলের চরম দুদিন, দলকে নিচিহৃ করার যড়যন্ত্র চলছে, তাই দলকে সুসংগঠিত করে খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে । পাশাপাশি সকলের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যদি সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনীত করেন তাহলে এই আসনটি তাকে উপহার দিব ইনশাল্লাহ। তিনি আরও বলেন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে সকলকে সদস্য হওয়ার ও আহবান জানান।

মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৭

ধর্মপাশায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজ-সার ও টাকা বিতরণ

ধর্মপাশায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজ-সার ও টাকা বিতরণ

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫হাজার ৩৬৪ জন কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বোরো বীজ, রাসায়নিক সার ও ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে ১হাজার টাকা বিতরণের উদ্ধোধন করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে হাওর এলাকায় সরকারের বিশেষ কৃষি পূনর্বাসন কর্মসূচীর ২০১৭-২০১৮ আওতায় বিনামূল্যে  বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্টানিকভাবে উদ্ধোধন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে উদ্ধোধনী অনুষ্টানে বক্তব্য রাখেন,উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহম্মেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবু মনিন্দ্র চন্দ্র তালুকদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শামীম আহম্মেদ বিলকিস, জেলা পরিষদের সদস্য শামীম আহম্মেদ মুরাদ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম আহমেদ প্রমূখ।
অনুষ্টান শেষে প্রথম দিনেই উপজেলা সদর ইউনিয়নের ২ হাজার কৃষকের প্রত্যেকের হাতে ৫ কেজি বোরো বীজ ধান, ২০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার তুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রত্যাককে ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হয় ।



রবিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৭

পরকীয়া প্রেমিকার সাথে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকায়  প্রেমিককে গণধোলাই দিল এলাকাবাসী

পরকীয়া প্রেমিকার সাথে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকায় প্রেমিককে গণধোলাই দিল এলাকাবাসী

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
পরকীয়া প্রেমিকার সাথে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অফিস সহকারি রতন সরকারকে (৩৮) গণধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী।
শনিবার রাত চারটার দিকে ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের শ্যামলী-২ নামে সরকারি বাসভবনের নীচ তলার উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের অফিস সহায়ক মো. কামরুজ্জামানের বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পরার পর গতকাল রবিবার সকাল থেকেই উপজেলা সদরের সর্বত্রই আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে।
জানা গেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অফিস সহকারি রতন সরকারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অফিস সহায়ক মো. কামরুজ্জানের স্ত্রী তিথীমনির (২৮) পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এমনকি তিথীমণির স্বামী অফিস সহায়ক কামরুজ্জামান অফিসের বা ব্যক্তিগত কাজে মাঝে মধ্যে কোথাও গেলেই এ সুযোগে অফিস সহকারি রতন সরকার কামরুজ্জামানের বাসায় গিয়ে তার স্ত্রী তিথীমণির সাথে পরকীয়া প্রেম চালিয়ে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার অফিসের কাজ শেষে তিথীমণির স্বামী অফিস সহায়ক কামরুজ্জামান তার ব্যক্তিগত কাজে অফিস থেকে তিন দিনের ছুটি নিয়ে ঢাকায় চলে যান। এরই সুযোগে তার স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক অফিস সহকারি রতন সরকার শনিবার রাতে কামরুজ্জামানের বাসভবনে গিয়ে তার পরকীয়া প্রেমিকা তিথীমণির সাথে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। পরে আশ পাশের লোকজন তাদের অসমাজিক কাজে লিপ্ত থাকার বিষয়টি টের পেয়ে তারা তিথীমণির কক্ষের দরজার বাহির দিক দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে এক পর্যায়ে উপজেলা পরিষদের মালী রুক্কু মিয়াকে তালাবদ্ধ রতন সরকার মোবাইল ফোনে তাকে ওই বাসভবন থেকে উদ্ধার করার জন্য সুপারিশ করেন। পরে রতন সরকারের অনুরোধে রুক্কু মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কক্ষের তালা ভেঙ্গে দেয়ার সঙ্গে-সঙ্গে অফিস সহকারি রতন তিথীমণির কক্ষ থেকে বের হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় এলাকাবাসী ধাওয়া করে রতনকে ধরে গণধোলাই দেন।
পরে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার ও থানার ওসি সুরঞ্জিত তালুকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সামাল দেন।
এ বিষয়ে পরকীয়া প্রেমিকা তিথীমনির স্বামী অফিস সহায়ক কামরুজ্জামান বলেন, আমার স্ত্রীর সাথে অফিস সহকারি রতন সরকারের পরকীয়ার বিষয়ে আমি আমার স্ত্রীকে অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু আমি তাকে এ রাস্তা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারিনি। আমি কোনো কাজে কর্মস্থলে না থাকার সুযোগেই তারা এ ধরনের অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়। তিনি আরো বলেন, আমি ব্যক্তিগত কাজে তিন দিনের ছুটিতে ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগেই তারা শনিবার রাতেও এ ভাবে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়।
অভিযুক্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অফিস সহকারি রতন সরকার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, আমি রাত অনুমান ৩টার দিকে হাসপাতাল গেইট সংলগ্ন একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে আসার পথে উপজেলা পরিষদের সরকারি বাসভবন শ্যামলী-২ সামনে আসা মাত্রই পেছন থেকে অপরিচিত একজন লোক আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে আমি মারাত্মকভাবে আহত হই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. মানিক মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, আমি এখন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দায়িত্বে রয়েছি। আমার ধর্মপাশা কার্যালয়ের অফিস সহকারির এ বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। তবে তা খুঁজ নিয়ে দেখব। 
ধর্মপাশা থানার ওসি সুরঞ্জিত তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বিষয়টি উপজেলা পরিষদের আভ্যন্তরীণ বিধায় আমি সেখান থেকে ইউএনও স্যারের নির্দেশে চলে আসি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার বলেন, বিষয়টি পরিষদের আভ্যন্তরীণ বিধায় তা আমরা উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট সাহেব কর্মস্থলে আসার পর এ বিষয়টির তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৭

জামালগঞ্জে হাওর রক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

জামালগঞ্জে হাওর রক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের আয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জনপ্রতিনিধি,রাজনীতিবিদ,গণমাধ্যম কর্মী, হাওর উন্নন কর্মী ও উপকার ভোগী কৃষকদের নিয়ে হাওর রক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

গত শনিবার দুপুরে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের গজারিয়া বাজারে সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেনারবাক ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার । ইউপি সচিব অজিত কুমার রায়ের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শামীম আল ইমরান।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রশীদ আহমদ,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড: সাফায়েত আহমদ সিদ্দিক সাচনা বাজারের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম,উপজেলা আ:লীগ সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী,যুগ্ম সম্পাদক কাজী আশরাফুজ্জামান,জামালগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান সিদ্দিকী,হাওর বাচাও জামালগঞ্জ বাচাও আন্দোলনের আহবায়ক গুল আহমেদ,হাওর ও পরিবেশ উন্নয় সংস্থার সভাপতি কাস্মীর রেজা,সাধারন সম্পাদক প্রিযুশ পুরকায়স্থ টিটু,ফেনারবাকের সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান,হাওর বাচাও সুনামগঞ্জ বাচাও আন্দোলনের জেলার সদস্য সচিব বিন্দু তালুকদার,সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টার,জহিরুল হক তালুকদার,জামালগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল আহাদ কৃষক নেতা শাহাব উদ্দিন,হাওর উন্নয়নও গনমাধ্যম কর্মী অঞ্জন পুরকায়স্থ,ওয়ালী উল্লাহ সরকার,অনিমেষ দাস,নেহার দেবনাথ,বাপ্পী বর্মন, তৗহিদ চৌধুরী প্রদীপ,মো: আখতারুজ্জামান তালুকদার।
পাগনার হাওর পাড়ের কৃষকদের মধ্যে মতামত ব্যাক্ত করেন আবুল কালাম,রিয়াজ উদ্দিন,জুলফিকার চৌধুরী রানা,আলী আহমদ,ফাইজুল কবির,শ্রীকান্ত তালুকদার,মহব্বত আলী,আমির উদ্দিন,মকবুল হোসেন,শিপন মিয়া,রঞ্জন সরকার,সাইদুর রহমান,সানোয়ার হোসেন,এমদাদ মিয়া।
সভায় ইউপি সদস্য আসাদ আলী, দীপক কুমার তালুকদার, অজিত কুমার সরকার, আলী আহমেদ, মোশারফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম রানা, ইয়াছিন মিয়া, কেএম আব্দুর রহিম, মিল্টন সরকার, ইউপি সদস্যা সেজু আক্তার, নুরে জান্নাত লিপি, আক্তার বান প্রমূখ
এতে উল্লেখ্য করেন চলতি বছরে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মানে ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ রয়েছে ইনশাল্লাহ তা সঠিক ভাবে কাজ করা হবে ।
 ধর্মপাশায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

ধর্মপাশায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত


সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় উৎপাদনমুখী সমবায় করি, উন্নত বাংলাদেশ গড়ি, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ৪৬তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে  গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমবায় দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা চত্ত্বর থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গিয়ে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবুল কালাম ফরাজির সঞ্চালনায় অনুষ্টিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান মো. মোসাহিদ তালুকদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবু মনিন্দ্র চন্দ্র তালুকদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শামীম আহম্মেদ বিলকিস প্রমূখ।

মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

এমপির ঘোষণার ৬ মাস ফেরিয়ে গেলেও বেতন পাননি ৭০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

এমপির ঘোষণার ৬ মাস ফেরিয়ে গেলেও বেতন পাননি ৭০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ-১ আসন হাওর বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় একমাত্র বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল এ হাওর পাড়ের মানুষ ।
গত বোরো মৌসুমের শুরুতেই অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের শতভাগ ফসলডুবি হওয়ায় চলতি বছরের  ১৩মে এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন নির্বাচনী এলাকা (ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও মধ্যনগর) এ চার থানার সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের এক বছরের বেতন তিনির নিজ তহবিল থেকে পরিশোধ করার ঘোষণা দেন । কিন্তু যথা সময়ে তা কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ায় বিপাকে পড়েছে ৭০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন উত্তোলন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। তবে শিক্ষার্থীরা এমপির ঘোষণাকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন দেওয়া বন্ধ রাখায় ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা। এমপির এমন অবাঞ্চনিয় ঘোষণা যথা সময় বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে । কোন উপায় না পেয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন ও পরিক্ষা ফি আদায়ের চেষ্টা চালাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানের শিক্ষকরা, এতে দেখা দিয়েছে ছাত্র শিক্ষকের ভিতর দন্দ ।
এব্যাপারে জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর কবীর বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক বছরের বেতন যথা সময়ে কার্যকর না করায় বিদ্যালয়ে আর্থিক সংকট দেখা দেওয়ায় শিক্ষকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা । আমার মনে হয় এতে করে শিক্ষকদের মধ্যে চাপাক্ষোভ ও ক্লাসে অমনোযোগী হয়ে পড়েছে ।
তাতে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা চরম ভাবে বাঁধাগ্রস্থত হচ্ছে । কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তা  এখনো অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
এব্যাপারে সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সুনামগঞ্জের আলোকে বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধ করা হবে।

মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭

খাইরুল হুদা চপলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ধর্মপাশায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদসভা

খাইরুল হুদা চপলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ধর্মপাশায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদসভা

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় জেলা যুবলীগের আহবায়ক খাইরুল হুদা চপলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদসভা করেছে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদসভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলার মধ্যনগর থানা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মেহেদি হাসান উজ্জ্বলের নেতৃত্বে বংশিকুন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রায় দুই শতাধিক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বংশিকুন্ডা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পূনরায় মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এক প্রতিবাদসভায় মিলিত হয়।
ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. কুদরত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত প্রতিবাদসভায় বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামীলীগ নেতা নারায়ণ সরকার, যুবলীগ নেতা মেহেদি হাসান উজ্জ্বল,ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবল সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক পীযুষ সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক আশরাফুল আলম,যুবলীগ নেতা শাহীনুর আলম, আব্দুল আমীন, বিল্লাল হোসেন, কমল সরকার প্রমূখ।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন,রাজনৈতিক প্রতি হিংসার কারণেই ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় জেলা যুবলীগের জনপ্রিয় সংগ্রামী আহবায়ক খাইরুল হুদা চপলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রান্তকারীরা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক অবস্থানকে দুর্বল করার লক্ষেই তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটাছে তাই আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা খাইরুল হুদা চপলের অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
নাটকীয় ভাবে নাম পরিবর্তন করেন সুধাংশু

নাটকীয় ভাবে নাম পরিবর্তন করেন সুধাংশু

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আসলে বাংলাদেশে আত্ম প্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি মিঠুন চৌধুরীর আসল নাম সুধাংশু রায়। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলি ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামে।

এলাকাবাসী জানাযায়, মিঠুন চৌধুরী নাম নেওয়া সুধাংশু রায় ১৯৯১ সালে এসএসসি পাস করে এলাকা ছাড়ার পর মাঝেমধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন উৎসবে স্বল্প সময়ের জন্য এলাকায় আসতেন। ভারত ঘুরে এসে নিজের প্রকৃত নাম গোপন করে নতুন নাম নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল করেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকাবাসীও বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

সুধাংশু রায়ের পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুধাংশু রায়ের জীবন রহস্যে ঘেরা। তিনি নিজের বংশের উপাধি বদলে এখন চৌধুরী উপাধি ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশের কিংবদন্তি বাম রাজনীতিবিদ বরুণ রায় আত্মীয় না হলেও তিনি তাঁর নাতি বলে পরিচয় দিচ্ছেন। তবে বরুণ রায়ের স্ত্রী শীলা রায় জানিয়েছেন, এ নামের কেউ তাঁদের আত্মীয় নন।

সরজমিনে সুধাংশু রায় ওরফে মিঠুন চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মরা পিয়ান নদীর তীরে তাঁর বাড়িতে দুটি টিনশেড ঘর আর একটি আধাপাকা কালী মন্দির। সাচনবাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার অদূরে রহিমাপুরের এই  বাড়িতে মৃত হরেন্দ্র রায়ের স্ত্রী  রেণুবালা রায় (৮৫) ও তিন ছেলের পরিবার নিয়ে থাকছেন,বাবুল রায়(৬০),হিমেন্দ্র রায়(৫৫)  ও হিমাংশু রায়।

সবার বড়ভাই বাবুল রায়(৬০) স্থানীয় সাচনা বাজারে ফলের ব্যাবসা করেন, হিমেন্দ্র রায়(৫৫) স্থানীয় বাজারে ফেরি করে মালামাল বিক্রি করেন। হিমাংশু রায়(৪৫) সাচনা বাজারের মাদক স¤্রাট ও চোরা কারবারী ,ইন্দ্রজিত রায় নামের এক ভাই বর্তমানে ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সবার ছোট ভাই বিশ্বজিৎ রায় সেন্টু মাদক কারবারের অভিযোগে সম্প্রতি জেল খেটে বেরিয়েছেন।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে এসএসসি পাস করে সুনামগঞ্জের গোবিন্দগঞ্জ কলেজে ভর্তি হন সুধাংশু রায়। সেখানকার ভর্তি বাতিল করে এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি।

তবে সুধাংশু রায় দাবি করেন, পরে সিলেট ও কলকাতায় উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। কোন বিষয়ের ওপর পড়াশোনা করেছেন জানতে চাইলে তিনি ‘কালচারাল’ বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করার দাবি করেন।

পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, ২০০২ সালে বিটিভিতে ‘জীবন একটাই’ নামের একটি নাটক প্রযোজনা করে নিজের নাম মিঠুন চৌধুরী করেন সুধাংশু রায়। এর পর থেকেই তিনি নিজেকে মিঠুন চৌধুরী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুধাংশু রায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান আদিবাসী পরিষদ নামের একটি নামসর্বস্ব সংগঠন করে নিজেকে সভাপতি ঘোষণা দেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর শুধাংশু রায় ওরফে মিঠুন চৌধুরী ভারতের বিজেপির আদলে বাংলাদেশ জনতা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন।

তাঁর বাল্যবন্ধু রবীন্দ্র কুমার দাস,অমিতাভ দাস,বিদ্যুৎ দাস বলেন, সুধাংশু ম্পর্কে জামালগঞ্জের সাবারই জানা,সে একেক সময় একেক অবতার রুপে আবির্ভাব হয়,‘সুধাংশু আমরার প্রাথমিক ও হাইস্কুল জীবনের বন্ধু, তারে এই নামে আমরা চিনি। মিঠুন চৌধুরী নামে আমরা চিনি না। এসএসসির পর উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছে কি না আমাদের জানা নেই। ’ তবে আমার জানা মতে সে একটা হোমল্যান্ড লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানী ও পরে প্রগতী লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানীতে বড় একটা পদে ছিল,পরে ঐ কোম্পানী তার নামে মামলা ও করেছে যা এখনও চলমান।

সুধাংশু রায়ের মা রেণুবালা রায় বলেন, ‘আমার ফুয়া সুধাংশু ফোনে আমার খবর নেয়। অসুখবিসুখ অইলে চিকিৎসা করায়। হে কিতা খরে আমি জানি না। ’

নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মিঠুন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কলসিন্ধুর জমিদার ছিলাম। আমরা জাতে চৌধুরী। মামার বাড়ি এলাকায় স্থায়ী হয়েছি বলে আমরা রায় উপাধি গ্রহণ করেছি। আমার বাবার প্রকৃত পরিচয় জানার পর আমি চৌধুরী উপাধি নিয়েছি। ’ এলাকা ছাড়ার পরই মিঠুন নামে তিনি পরিচিত বলে দাবি করেন। বিজেপি গঠনের আগে তিন মাস ভারতে অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সেখানের অনেক মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। তাঁরা আমাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ’রাজনৈতিক দল ঘোষণার পর তাঁর সঙ্গে অনেক দলের নেতারা যোগাযোগ করছেন জানিয়ে মিঠুন চৌধুরী দাবি করে বলেন, ‘আমরা আগামী দিনে নির্বাচন করে সরকার গঠন করব।

শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

নবীগঞ্জে আবারো অগ্নিকান্ড

নবীগঞ্জে আবারো অগ্নিকান্ড

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ ৪ দিনের ব্যবধানে নবীগঞ্জ শহরে আবারো অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ভস্মিভূত হয়েছে বসত ঘর। পরে নবীগঞ্জ দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় আধা ঘন্টার প্রচেষ্ঠায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন।
সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নবীগঞ্জ পৌর এলাকার শিবপাশা আনমনু রোডের ডাক্তার’র বাড়ির হিসেবে পরিচিত রিন্টু দাশের বাড়ির লোকজন ঘরে তালা দিয়ে দুর্গাপূজা উৎযাপন করতে পূজা মন্ডপে যায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে নবীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী রিন্টু দাশের বসত ঘরে পরিবারের সদস্যদের  অনুপস্থিতিতে হঠাৎ করে ধাও ধাও করে আগুন জ¦লতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে ঘরের ভিতরের আসাবাপত্র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মালামালসহ সমস্ত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন নবীগঞ্জ পৌর সভার মেয়র আলহাজ¦ সাবির আহমদ চৌধুরী, নবীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, প্যানেল মেয়র-১ এটিএম সালাম। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ দমকল বাহিনীর ইনচার্জ তৈয়ব আলী হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল দমকল বাহিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে। পরে প্রায় আধাঘন্টার প্রচেষ্ঠায় আগুন নিয়নন্ত্রে আনা হয়।
নবীগঞ্জ পৌর সভার মেয়র আলহাজ¦ সাবির আহমদ চৌধুরী জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থ পরির্দশন করেছি। কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলা যাচ্ছে না। পুড়ো ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
নবীগঞ্জ দমকল বাহিনীর ইনচার্জ তৈয়ব আলী হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনি। বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নবীগঞ্জ পৌর শহরের ওসমানী রোডস্থ থানা পয়েন্টে সত্তার মিয়ার মার্কেটে এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে একটি লেপ তোষকের দোকান, আরএফএল প্লাষ্টিকের দোকান, একটি সেলুন, ইলেক্ট্রনিক্স এর দোকান, মোবাইল টেলিকমের দোকানসহ কমপক্ষে ৮টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বানিয়াচঙ্গ-আজমিরীগঞ্জ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হুমায়ূন কবির রেজার পূজামন্ডপ পরিদর্শন

বানিয়াচঙ্গ-আজমিরীগঞ্জ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হুমায়ূন কবির রেজার পূজামন্ডপ পরিদর্শন

বানিয়াচঙ্গ-আজমিরীগঞ্জ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হবিগঞ্জ জেলা কৃষকলীগ সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির রেজা বানিয়াচঙ্গ উপজেলার দৌলতপুর, কাগাপাশা, বড়ইউড়ি, খাগাউড়া ও পুকড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছেন। পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি পূজারীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বানিয়াচঙ্গ উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি রুহুল কিবরিয়া বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক সামছুল হক ঠাকুর সেবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন, কাউছার মিয়া, তৌফিকুল মিয়া, ইসরাঈল মেম্বার, সাবেক চেয়াম্যান মঞ্জু কুমার দাশ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ ইব্রাহিম খলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক পংকজ কুমার নিধু, কৃষকলীগ ইউনিয়ন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা  মনীন্দ্র চন্দ্র দাশ, সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলামসহ কৃষকলীগ নেতৃবৃন্দ।
সদর হাসপাতালে আবারো চিকিৎসারঅবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যু

সদর হাসপাতালে আবারো চিকিৎসারঅবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যু

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসারঅবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নবজাতকের স্বজনদের সাথে হাসপাতালের কর্মচারিদের বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। বানিয়াচং উপজেলার ইকরাম গ্রামের দুবাই প্রবাসি সুমন মিয়া জানান, গত বুধবার সকালে তার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তার স্ত্রী ফুটফুটে এক পুত্রসন্তান জন্ম দেন। ঘন্টাখানেক পরে নবজাতক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শিশু ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে যাবার পর কোন চিকিৎসানা পাওয়ায় তিনি কয়েকবার শিশু চিকিৎসকেরনিকট যান। কিন্তু কোন চিকিৎসকনা আসায় সন্ধ্যার দিকে অপর এক চিকিৎসকতার নবজাতককে হিট দেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু বিকাল ৫টার দিকে ওই ওয়ার্ডের নার্সের নিকট যাওয়ার পর তিনি হিট না দিয়ে কালক্ষেপন করেন। পরে সুমন মিয়া ফের ডাক্তারের নিকট গেলে ওই নবজাতককে হিট দেয়ার ব্যবস্থা করেন। এদিকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই নবজাতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ নিয়ে হাসপাতালের কর্মচারিদের সাথে সুমন ও তার স্বজনদের বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নবজাতকের পিতা সুমন ও তার স্বজনরা আক্ষেপ করে জানান, চিকিৎসারঅবহেলায় তাদের নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তারা এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিবেন। উল্লেখ্য চিকিৎসারঅবহেলায় গত একমাসে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নবজাতকের স্বজনরা এ প্রতিনিধিকে জানান, ২ দিন ধরে হাসপাতালে অর্ধশতাধিক নবজাতক ও শিশুকে নিয়ে ভর্তি হলেও ঔষধতো দুরের কথা কোন পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে না। আর ডাক্তার যে সব ঔষধ লিখে দিচ্ছেন তা বাহির থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।
শেখ হাসিনার সুুুুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা ॥ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বানিয়াচং যুবলীগ সেক্রেটারী আলমগীরের উদ্যোগে মিলাদ ও কাঙ্গালী ভোজ

শেখ হাসিনার সুুুুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা ॥ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বানিয়াচং যুবলীগ সেক্রেটারী আলমগীরের উদ্যোগে মিলাদ ও কাঙ্গালী ভোজ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রেী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিনে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা করে বানিয়াচং উপজেলা যুবলীগের নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক শেখ আলমগীরের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও কাঙ্গালী ভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ১নং বানিয়াচং উত্তর-পূর্ব ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান খান, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির তোফানী, বড়বাজার ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ জয়নাল আবেদীন ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ আবুল হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা জালাল উদ্দিন খান বাবুল ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জনাব আলী ডিগ্রী কলেজের সাবেক জিএস আরজু মিয়া, বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা শাহিনুর। অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি মোঃ আনছার আলী, যুগ্ম সম্পাদক আজমল হোসেন খান, যুবলীগ নেতা অলফুজ খান, কামরুল, তোফাজ্জল হোসেন শাওন, তানভীর আহমেদ পলাশ, রাশেদ, হারুন বিশ্বাস, হাফিজ মিয়া সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নাশকতা এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ॥ শহরের রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজায় হাজারো দর্শনার্থীদের ঢল

নাশকতা এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ॥ শহরের রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজায় হাজারো দর্শনার্থীদের ঢল


সারাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জের রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় হবিগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী মায়ের পূজা। এবারের কুমারী ৮বছরের শিশু কন্যা সুস্মীতা ভট্টাচার্য্য। সে সিলেট জেলার বাগবাড়ি এলাকার শ্রী কৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কন্যা পূজার পূর্বে কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিদুরের তিলক এবং পায়ে আলতা। ঠিক সময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয় কুমারী মাকে। চারদিক মুখরিত হয় শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তব-স্তুতিতে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা কঠোর পরিশ্রম করেন। ওই এলাকাকে যানজট মুক্ত রাখতেও নেয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা।
এদিকে কুমারী পূজা দেখতে সকাল থেকেই রামকৃষ্ণ মিশনে হাজার হাজার নারী-পুরুষ উপচে পড়া ভীর দেখা যায়। দর্শনার্থীরা কুমারী মাকে এক পলক দেখা ও পুজোর জন্য উপচে পড়া ভীরকে উপক্ষো করে রামকৃষ্ণ মিশনে গিয়ে সমাগম ঘটান। এছাড়াও বাহুবল উপজেলার শচী অঙ্গনধামেও কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা পুজা উৎযাপনপরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার দেব জানান, সকাল ১০ টায় রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকায় কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার হায়াতুন্নবী জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎএ পুজা যাতে নির্বিঘেœ অনুষ্ঠিত হয় সে জন্য হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আশা করি প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত কোন ধরণের আইনশৃংঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটবে না।

বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

জামালগঞ্জে যুবকের কারাদন্ড

জামালগঞ্জে যুবকের কারাদন্ড

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ইভটিজিং’র দায়ে এক যুবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গল বেলা বার টায় কালীপুর গ্রামের মো: সুরুজ আলীর ছেলে কবির হোসেন (২৫) কে উৎতপ্ত করার দায়ে সাচনা বাজার থেকে গ্রেফতার করে জামালগঞ্জ থানা পুলিশ।
জানাযায়, বেশ কয়েকদিন যাবৎ মাদ্রাসায় ছাত্রীরা আসা যাওয়ার রাস্তায় বখাটে কবির হোসেন (২৫) প্রায়ই মেয়েদের উৎতপ্ত করত। এ ধরনের অভিযোগ থানায় ছিল,পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনলে মঙ্গল বার টায় দিকে ছাত্রীদের উৎতপ্ত করতে দেখে সাচনা বাজার অটো রিক্সার ষ্টেশন থেকে গ্রেফতার করে তাকে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যট মনিরুল হাসান (অ:দা:) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ মাসের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করে জেল হাজতে পাঠানোর নিদের্শ দেন তিনি।

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ধর্মপাশায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওএমএসের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

ধর্মপাশায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওএমএসের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ওএমএসের তিনজন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল তাদেরকে না জানিয়ে তা তিনি নিজেই উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত অকাল বন্যায় উপজেলার কৃষকের একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর সরকারিভাবে কৃষকদের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই লক্ষে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১১ জন ওএমএসের ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। আর প্রত্যেক ডিলার প্রতিদিন ১৫ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে ৫ কেজি করে ২ শত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষদের মধ্যে চাল বিক্রি করে আসছে। কিন্তু খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ধর্মপাশা উপজেলা উপ-খাদ্য পরিদর্শক) গোলাম কিবরিয়া উপজেলার মধ্যনগর সদর ইউপি’র ডিলার শাখাওয়াত হোসেন, দক্ষিণ বংশিকুন্ডা ইউপির ডিলার রাজু আহম্মেদ ও বংশিকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ওএমএসে ডিলার আব্দুর রাজ্জাক ওই তিন ডিলারের নামে চলতি মাসের ১৪-১৫ তারিখে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খোলা বাজারে বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল ওই তিন ডিলারকে না জানিয়েই তিনি চলতি মাসের ১৩ তারিখে তাদের নামে ব্যাংকে চালান জমা দিয়ে তিনি বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে তা নিজেই আত্মসাত করেন।
গতকাল সোমবার সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে ধর্মপাশা সোণালী ব্যাংকে গিয়ে জানা যায়,খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা চলতি মাসের ১৩ তারিখে তিনি ওএমএস ডিলার আব্দুর রাজ্জাক, রাজু আহম্মেদ ও ডিলার শাখাওয়াত হোসেনের নামে ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর চালান মূলে ওই তিন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলণের জন্য  ৮১ হাজার টাকা তিনি জমা দেন।
এদিকে ওই তিন ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চলতি মাসের ১৪-১৫ তারিখে খোলা বাজারে চাল কিনতে না পারায় তাদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়াতেই তার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পায়না। তিনি এলাকার কালোবাজারিদের সাথেও সখ্য গড়ে তুলেছেন বলেও একাধিক সূত্রে জানা যায়। এমনকি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে একাধিকবার আর্থিক জরিমানাও গুণতে হয়েছে তাকে।
উপজেলার বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওএমএস ডিলার রাজু আহম্মেদ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, চলতি মাসের ১৪-১৫ তারিখের জন্য আমার নামে বরাদ্দকৃত ২ মেট্রিক টন চালের টাকা ১৩ তারিখে ব্যাংকে জমা না দেয়ার জন্য খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজেই আবার ১৩ তারিখে আমার নামে বরাদ্দকৃত চালের টাকা আমার অগোচরে ব্যাংকে জমা দিয়ে উক্ত চাল উত্তোলণ করে নিয়েছেন। আর এ জন্য দুইদিন খোলাবাজারে চাল বিক্রি করতে না পারায় এলাকার ভূক্তভোগীদের চাপ সামলাতে হচ্ছে আমাকে। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলার মধ্যনগর ইউপির ডিলার শাখাওয়াত হোসেন ও বংশিকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ডিলার আব্দুর রাজ্জাক।
উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া তার বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ৩ জন ডিলারের নামে ১৪-১৫ তারিখে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চালের টাকা ধর্মপাশা সোণালী ব্যাংকে জমা দিয়েছি এবং উক্ত চাল আমার গুদামেই রয়েছে। তবে পরিবহনের সমস্যার কারণে ডিলাররা ওই চাল নিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাঈমা খন্দকার জানান, বিষয়টি তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  নেয়া হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো.জাকারিয়া মোস্তফার কাছে  মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার পর তদন্তে প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বড় দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা করছে সরকার -টিআইবি

বড় দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা করছে সরকার -টিআইবি



সু.খবর ডেস্ক

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বড় দুর্নীতিবাজদের সরকার সুরক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। রবিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে টিআইবির সম্মেলন কক্ষে ‘টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট ১৬: দুনীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যের ওপর বাংলাদেশের প্রস্তুতি, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদ পেশ করে টিআইবি। গবেষণাটি এবছর এপ্রিল থেকে আগস্ট সময়ের মধ্যে পরিচালিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির প্রতিবেদন তুলে ধরে সংস্থাটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম বলেন, বাংলাদেশে নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার প্রবণতা বিদ্যমান। দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। ২০১৬ সালে ১৯৫ জন এবং ২০১৫ সালে ১৯২ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা উদ্বেগজনক অপব্যবহার করা হচ্ছে। জাতীয় শুদ্ধাচার কাঠমোর অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকর নয়। এর পেছনে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব, কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, নির্বাহী বিভাগ ও প্রশাসনের আধিপত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশে আইনের প্রয়োগ সীমিত বা চর্চায় ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়াও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনের অপব্যবহার পরিলক্ষিত হয়েছে। দলীয় বিবেচনায় আইনের প্রয়োগ হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও বাংলাদেশে দুর্নীতি ও ঘুষ, অর্থপাচার, মৌলিক স্বাধীনতার ব্যত্যয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকর নয় এবং এজন্য দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব, কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, নির্বাহী বিভাগ ও প্রশাসনের আধিপত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতার কোনো কাঠামো নেই এবং এসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ব্যবস্থাও দুর্বল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশও পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারসহ কয়েকটি বিষয়ে সরকারের কাছে আংশিক তথ্য থাকলেও দুর্নীতি ও ঘুষ, সরকারি সেবা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের সন্তুষ্টি এবং বিচার-বহির্ভূত হত্যাকা- বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। সার্বিকভাবে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য ২৪১টি সূচকের মধ্যে সরকারের কাছে ৭০টি সূচকের ওপর সম্পূর্ণ এবং ১০৮টি সূচকের ওপর আংশিক তথ্য রয়েছে। ৬৩টি সূচকের ওপর সরকারি কোনো তথ্য নেই।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, যারা বড় ধরনের অর্থ পাচার করেন তাদের আইনের আওতায় না এনে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। দলীয় রাজনীতির কুপ্রভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকারিতা নয়।  এছাড়া, জনগণের মৌলিক স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনাসমূহ তদন্ত ও ফলাফল প্রকাশে সদিচ্ছা ও স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং ব্যাংক খাতের কেলেংকারিগুলোর দোষীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার মতো উদাহরণ সার্বিকভাবে অভীষ্ট অর্জনের অগ্রগতির সাথে সাংঘর্ষিক। এক্ষেত্রে এসডিজির মূল লক্ষ্য ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়’ -এর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রসর হতে হবে।’
টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাড. সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশে সব স্তরে বৈষম্য-বিভাজন ও অনিয়ম বিদ্যমান। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। সব জায়গায় এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে নানামুখি পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বিভিন্ন জরিপ ও তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে এর সুফল সকল ক্ষেত্রে জনগণ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য সব পরিকল্পনা, কার্যক্রম ও কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’  
টিআইবি আইনি সংস্কারের সুপারিশে করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল চেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের গঠন, কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম নিয়ে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। দুর্নীতি দমনে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ করেছে।
এ ছাড়াও সংস্থাটি সবধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও পুলিশি হেফাজতে মত্যুর তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।
গবেষণায় দুর্নীতি ও ঘুষ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য না হওয়া; বিদ্যমান আইনে কয়েকটি বিভাগের কর্মচারীদের আওতামুক্ত রাখা; স্বার্থের দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত প্রদত্ত বিবরণ প্রকাশে সরকারি কর্মচারীদের বাধ্যবাধকতা না থাকা; নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্যদের আর্থিক তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকা; জনস্বার্থ সুরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে পেশাগত বাধ্যবাধকতা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, তথ্য প্রকাশকারী কোনো সমস্যায় পড়লে তার প্রতিকার, অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্বচ্ছ, কার্যকর ও সময়োপযোগী পদ্ধতির অনুপস্থিতি; দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বেনামি মালিকানার তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকা; সরকারি ক্রয়ে গোপন আঁতাত বন্ধ করার জন্য কোনো বিধান না থাকা এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য অবসর গ্রহণের পর একই খাতের বেসরকারি কোনো চাকরিতে যোগদানের পূর্বে কতদিন ব্যবধান থাকতে হবে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকা।
তবে গবেষণায় সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৬ সালে প্রাপ্ত ১২ হাজার ৫৬৮টি অভিযোগের মধ্যে এক হাজার ৫৪৩টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে ৫৪৩টি অভিযোগ প্রেরণ করা হয়। এর আগে প্রতি বছর গড়ে এক হাজার ২০টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হতো। ২০১৬ সালে ৩৫৯টি অবৈধ উপায়ে সুবিধা লাভ সংক্রান্ত মামলা নথিভুক্ত করার পাশাপাশি ঘুষ নেয়ার জন্য ১৩ জনকে আটক ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ অবৈধ উপায়ে সুবিধা লাভ সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় ৩৮৮ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া, দুর্নীতির অভিযোগ জানানোর জন্য দুদক কর্তৃক সম্প্রতি হটলাইন চালু করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ওয়াহিদ আলম এবং এ এস এম জুয়েল মিয়া।

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ২ আহত ১২

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ২ আহত ১২

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের দোয়রাবাজার উপজেলায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে বিএনপি নেতাসহ দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০জন।  শনিবার সকাল বেলা ১২টার চৌমুনা পয়েন্টে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার গোরেশপুর গ্রামের বিএনপি নেতা শেরুজ্জামান ও বেরী গ্রামের মাসুক মিয়ার পক্ষের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহত সেরুজ্জামান দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি গোরেশপুর গ্রামের মৃত উমর আলীর ছেলে। অপর নিহত এবাদুল্লাহ বেরীগাঁও গ্রামের মৃত ফয়জুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের  গোরেশপুর ও বেরীগাঁও গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তজনা চলছিল। গত রমজানে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে গোরেশপুর গ্রামের ছয়ফুল ইসলাম নামের একজনের দাঁত ভাঙে বেরীগাঁও গ্রামের একদল যুবক। প্রতিশোধ স্বরূপ বেরীগাঁও গ্রামের কাওসার নামের এক যুবককে কুপিয়ে আহত করেন গোরেশপুরের লোকজন। এইসব ঘটনার জের ধরে শনিবার বেলা ১২টার দিকে চৌমুনা পয়েন্টে বিএনপি নেতা সেরুজ্জামানকে রামদা দিয়ে কুপায় বেরীগাঁও গ্রামের একদল যুবক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর খবর গ্রামের আসার পর সেরুজ্জামানের উত্তেজিত সমর্থকরা বেরীগাঁওয়ের লোকজনদের সাথে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে এবাদুল্লাহ ঘটনাস্থলে নিহত হন। আহত হন আরও ২০ জন। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক সার্কেলের এ এস পি দোলন মিয়া বলেন, পুর্ব বিরোধের জের ধরে এঘটনা ঘটেছেু।  উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই জন মারা যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।  সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক সার্কেল দোলন মিয়া জানান, উত্তেজনা থামাতে ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ঝালকাঠিতে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শহিদুল ইসলাম (৫০) নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শহিদুল সদর উপজেলার চাঁনবরু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আজ শনিবার ভোরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পালরদী গ্রাম থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সরোয়ার হোসেন জানান, ওই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন চাঁনবরু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম। পড়ানোর সময় প্রায়ই তিনি ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করতেন। গত ১৮ আগস্ট সকালে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন শহিদুল।
এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা ৮ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি সদর থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগটি মামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। শহিদুলকে শনিবার সকালে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের ভেতরে থাকার নির্দেশ

রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের ভেতরে থাকার নির্দেশ

নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নির্দিষ্ট ক্যাম্পে অবস্থান করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগণকে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলার সুপারিশ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। আজ শনিবার এ সম্পর্কে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে পুলিশ। 
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে বাসস্থান, খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। তারা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্যাম্পে অবস্থান করবে। ক্যাম্পের বাইরে আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজনদের বাড়িতে তাদের অবস্থান বা আশ্রয় নেওয়া নিষেধ। ক্যাম্পের বাইরে বাংলাদেশের জনগণকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কাউকে বাসাভাড়া দেওয়া এবং পরিবহন চালক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রোহিঙ্গাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবহন করতে নিষেধ করা হয়েছে। 
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কেউ আশ্রয় দিলে বা বাড়িভাড়া দিলে অথবা তাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ার অথবা অবস্থানের খবর কেউ জানলে তাকে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। 
বাংলাদেশ পুলিশ নির্দেশনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা চেয়েছে।