শনিবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৭

জামালগঞ্জে বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্টিত

জামালগঞ্জে বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্টিত

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে সাচনা বাজার অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী, সাধারন সম্পাদক আব্দুল মালিক’র সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন
বিএনপি’র সহ সভাপতি মো. শামছু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. শাহীনুর রহমান, সহ সম্পাদক মোজাম্মেল হক স্বপন, শাহাব উদ্দিন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল লেইছ, মিছবাহ উদ্দিন, মদরিছ মিয়া চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য আব্দুল মতিন সরকার, সাচনা বাজার ইউপি বিএনপি’র সভাপতি জয়নাল আবেদীন পাঠান, ফেনারবাক ইউপি সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী তৌফিক, জামালগঞ্জ সদর আহবায়ক নাজিম উদ্দিন, বেহেলী ইউপি সাধারন সম্পাদক ডা. নজির আহম্মেদ, ভীমখালী ইউপি সাধারন সম্পাদক আলী হোসেন, জামালগঞ্জ উল্টর ইউপি আহবায়ক কমিটির নির্বাহী সদস্য জালাল উদ্দিন ফারুকী প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, আগামী ১৪ অক্টোবর শনিবার সাচনা বাজার ইউপি দূর্লভপুর বাজারে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হবে। আগামীতে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম ও নির্বাচনে ঐক্য বদ্ধ ভাবে দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
ধর্মপাশায় বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল এক শিশু

ধর্মপাশায় বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল এক শিশু

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল তাসলিমা আক্তার অরফে মনি (১১) নামের এক শিশু কন্যা। শিশু মণি আক্তার উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বড়পাচুর গ্রামের আব্দুল বারেকের মেয়ে।
জানা যায়, উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বড়পাচুর গ্রামের আব্দুল বারেকের শিশু কন্যা মণি আক্তার (১১) সাথে একই ইউনিয়নের বালীজুরী গ্রামের তরিক মিয়ার ছেলে মিষ্টার মিয়ার (২৪)  বিয়ের আয়োজন চলছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মামুন খন্দকার
পুলিশ ও সাংবাদিকদের নিয়ে ওই বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দেয়।
এব্যাপারে (ইউএনও) মো.মামুন খন্দকার বলেন ছেলে ও মেয়ের অভিভাবকের কাছ থেকে বাল্য বিয়ে না দেয়ার শর্তে একটি মুচলেখা রাখা হয়েছে।

শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭

ধর্মপাশায় ফলদ বৃক্ষ মেলা উদ্বোধন

ধর্মপাশায় ফলদ বৃক্ষ মেলা উদ্বোধন

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ফলদ বৃক্ষ মেলা ২০১৭ শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্টিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য পুষ্টি অর্থ চাই দেশি ফলের গাছ লাগাই এ স্লোগানকে সামনে রেখে একটি বর্ণাট্য র‌্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা  চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
গত কাল শুক্রবার ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যেগে উপজেলা চত্বরে ৩ দিনব্যাপি ফলদ বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সুনামগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার মাননীয় সংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোতালিব খাঁন,ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহম্মেদ বিলকিস। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মামুন খন্দকার । আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহম্মেদ, আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবু মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য শামীম আহম্মেদ মুরাদ সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান নূর হোসেন,জয়শ্রী ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জয় রায় চৌধুরী,সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ আহম্মেদ প্রমূখ।

বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৭

জামালগঞ্জে জলমহাল কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্টিত

জামালগঞ্জে জলমহাল কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্টিত

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা বিশ একরের নিচে জলমহাল কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গতকাল বুধবার উপজেলা সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান।
সহকারী কমিশনার(ভুমি) মনিরুল হাসানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন-উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা আক্তার দিপু, মৎস্য কর্মকর্তা  সেফাউল আলম, উপজেলা প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার,ওসি তদন্ত মিজানূর রহমান সিদ্দিকী, সমবায় কর্মকর্তা আবু তাহের, ফেঁনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুনাসিন্ধু তালুকদার, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ সাজিব, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ালী উল্লাহ সরকার,  স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ। বিল ব্যবস্থাপনা কমিটি সদস্য জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টু, মৎস্যজীবিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,আব্দুল মমিন শিপন,আব্দুল আলী, আবুল কাশেম, রহিছ উদ্দিন, উৎপল চন্দ্র তালুকদার,  মো.আক্তার আলী প্রমূখ।
সভায় বক্তাগন বলেন,জলমহালের সীমানা পানি কমার পর নির্ধারণ করে সীমানার বাহিরে উম্মোক্ত হাওড়ে মৎস্য জীবিরা যেন মাছ ধরতে পারে সে ব্যাবস্থা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছোট পোনা মাছ নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে মেশিন দিয়ে জলমহালের তলা শুকিয়ে মাছ ধরার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মৎস্যজীবিরা সাব লিজ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রতি জুলাই থেকে মার্চ মাসের মধ্যে প্রত্যেকটি সমিতি অডিট রিপোর্ট জমা দিতে হবে। মৎস্যজীবি সমিতির মাঝে কোন জুিঙ্গ থাকলে সদস্য পদ বাতিল করা হবে। উম্মোক্ত নদীতে বাশঁ দিয়ে ঘের করে মাছ মারা যাবেনা।

মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭

খাইরুল হুদা চপলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ধর্মপাশায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদসভা

খাইরুল হুদা চপলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ধর্মপাশায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদসভা

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় জেলা যুবলীগের আহবায়ক খাইরুল হুদা চপলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদসভা করেছে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদসভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলার মধ্যনগর থানা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মেহেদি হাসান উজ্জ্বলের নেতৃত্বে বংশিকুন্ডা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রায় দুই শতাধিক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বংশিকুন্ডা বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পূনরায় মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এক প্রতিবাদসভায় মিলিত হয়।
ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. কুদরত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত প্রতিবাদসভায় বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামীলীগ নেতা নারায়ণ সরকার, যুবলীগ নেতা মেহেদি হাসান উজ্জ্বল,ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবল সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক পীযুষ সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক আশরাফুল আলম,যুবলীগ নেতা শাহীনুর আলম, আব্দুল আমীন, বিল্লাল হোসেন, কমল সরকার প্রমূখ।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন,রাজনৈতিক প্রতি হিংসার কারণেই ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় জেলা যুবলীগের জনপ্রিয় সংগ্রামী আহবায়ক খাইরুল হুদা চপলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রান্তকারীরা সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক অবস্থানকে দুর্বল করার লক্ষেই তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটাছে তাই আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা খাইরুল হুদা চপলের অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
নাটকীয় ভাবে নাম পরিবর্তন করেন সুধাংশু

নাটকীয় ভাবে নাম পরিবর্তন করেন সুধাংশু

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আসলে বাংলাদেশে আত্ম প্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি মিঠুন চৌধুরীর আসল নাম সুধাংশু রায়। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলি ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামে।

এলাকাবাসী জানাযায়, মিঠুন চৌধুরী নাম নেওয়া সুধাংশু রায় ১৯৯১ সালে এসএসসি পাস করে এলাকা ছাড়ার পর মাঝেমধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন উৎসবে স্বল্প সময়ের জন্য এলাকায় আসতেন। ভারত ঘুরে এসে নিজের প্রকৃত নাম গোপন করে নতুন নাম নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল করেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকাবাসীও বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

সুধাংশু রায়ের পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুধাংশু রায়ের জীবন রহস্যে ঘেরা। তিনি নিজের বংশের উপাধি বদলে এখন চৌধুরী উপাধি ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশের কিংবদন্তি বাম রাজনীতিবিদ বরুণ রায় আত্মীয় না হলেও তিনি তাঁর নাতি বলে পরিচয় দিচ্ছেন। তবে বরুণ রায়ের স্ত্রী শীলা রায় জানিয়েছেন, এ নামের কেউ তাঁদের আত্মীয় নন।

সরজমিনে সুধাংশু রায় ওরফে মিঠুন চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মরা পিয়ান নদীর তীরে তাঁর বাড়িতে দুটি টিনশেড ঘর আর একটি আধাপাকা কালী মন্দির। সাচনবাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার অদূরে রহিমাপুরের এই  বাড়িতে মৃত হরেন্দ্র রায়ের স্ত্রী  রেণুবালা রায় (৮৫) ও তিন ছেলের পরিবার নিয়ে থাকছেন,বাবুল রায়(৬০),হিমেন্দ্র রায়(৫৫)  ও হিমাংশু রায়।

সবার বড়ভাই বাবুল রায়(৬০) স্থানীয় সাচনা বাজারে ফলের ব্যাবসা করেন, হিমেন্দ্র রায়(৫৫) স্থানীয় বাজারে ফেরি করে মালামাল বিক্রি করেন। হিমাংশু রায়(৪৫) সাচনা বাজারের মাদক স¤্রাট ও চোরা কারবারী ,ইন্দ্রজিত রায় নামের এক ভাই বর্তমানে ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সবার ছোট ভাই বিশ্বজিৎ রায় সেন্টু মাদক কারবারের অভিযোগে সম্প্রতি জেল খেটে বেরিয়েছেন।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে এসএসসি পাস করে সুনামগঞ্জের গোবিন্দগঞ্জ কলেজে ভর্তি হন সুধাংশু রায়। সেখানকার ভর্তি বাতিল করে এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি।

তবে সুধাংশু রায় দাবি করেন, পরে সিলেট ও কলকাতায় উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। কোন বিষয়ের ওপর পড়াশোনা করেছেন জানতে চাইলে তিনি ‘কালচারাল’ বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করার দাবি করেন।

পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, ২০০২ সালে বিটিভিতে ‘জীবন একটাই’ নামের একটি নাটক প্রযোজনা করে নিজের নাম মিঠুন চৌধুরী করেন সুধাংশু রায়। এর পর থেকেই তিনি নিজেকে মিঠুন চৌধুরী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুধাংশু রায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান আদিবাসী পরিষদ নামের একটি নামসর্বস্ব সংগঠন করে নিজেকে সভাপতি ঘোষণা দেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর শুধাংশু রায় ওরফে মিঠুন চৌধুরী ভারতের বিজেপির আদলে বাংলাদেশ জনতা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন।

তাঁর বাল্যবন্ধু রবীন্দ্র কুমার দাস,অমিতাভ দাস,বিদ্যুৎ দাস বলেন, সুধাংশু ম্পর্কে জামালগঞ্জের সাবারই জানা,সে একেক সময় একেক অবতার রুপে আবির্ভাব হয়,‘সুধাংশু আমরার প্রাথমিক ও হাইস্কুল জীবনের বন্ধু, তারে এই নামে আমরা চিনি। মিঠুন চৌধুরী নামে আমরা চিনি না। এসএসসির পর উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছে কি না আমাদের জানা নেই। ’ তবে আমার জানা মতে সে একটা হোমল্যান্ড লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানী ও পরে প্রগতী লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানীতে বড় একটা পদে ছিল,পরে ঐ কোম্পানী তার নামে মামলা ও করেছে যা এখনও চলমান।

সুধাংশু রায়ের মা রেণুবালা রায় বলেন, ‘আমার ফুয়া সুধাংশু ফোনে আমার খবর নেয়। অসুখবিসুখ অইলে চিকিৎসা করায়। হে কিতা খরে আমি জানি না। ’

নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মিঠুন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কলসিন্ধুর জমিদার ছিলাম। আমরা জাতে চৌধুরী। মামার বাড়ি এলাকায় স্থায়ী হয়েছি বলে আমরা রায় উপাধি গ্রহণ করেছি। আমার বাবার প্রকৃত পরিচয় জানার পর আমি চৌধুরী উপাধি নিয়েছি। ’ এলাকা ছাড়ার পরই মিঠুন নামে তিনি পরিচিত বলে দাবি করেন। বিজেপি গঠনের আগে তিন মাস ভারতে অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সেখানের অনেক মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। তাঁরা আমাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ’রাজনৈতিক দল ঘোষণার পর তাঁর সঙ্গে অনেক দলের নেতারা যোগাযোগ করছেন জানিয়ে মিঠুন চৌধুরী দাবি করে বলেন, ‘আমরা আগামী দিনে নির্বাচন করে সরকার গঠন করব।

রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৭

বিশ্বম্ভরপুরে ভন্ড কবিরাজ ইসমাইল হুজুর ফুঁ দিলেই (২২০০) টাকা

বিশ্বম্ভরপুরে ভন্ড কবিরাজ ইসমাইল হুজুর ফুঁ দিলেই (২২০০) টাকা

আজিজুল ইসলাম বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি:
আসুন ভাই ফুঁ নিন তার বিনিময়ে (২২০০) টাকা দিয়ে যান, কিন্তু কেন ফুঁ নেবেন কারণ আপনাকে যদি জ্বীন বা সয়তানে ধরে তাহলে ফুঁ নিতে পারেন, আপনার সাথে যদি কোন জ্বীন থাকে তাহলে অবশ্যই জ্বীন ছলে  যাবে, একেবারেই গ্যারান্টি। আরো সেবা হলো, কারো ঘরের মাঠির নিচে যদি কোন তাবিজ থাকে। তাহলে এই গুলো জ্বীনের মাধ্যমে উঠানো হয়, এমনটাই হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের, আনন্দ বাজার মসজিদের ইমাম সে দীর্ঘদিন যাবত ভন্ড কবিরাজী করে আসছে, ভন্ড কবিরাজ ইসমাইলের কান্ড গুলো। বহুদিন যাবত ভন্ড কবিরাজ করে আসছে। কিন্তু সরকারের কর ফাঁকি দিয়ে চলছেই ভন্ড কবিরাজী। সে সরকারি লাইসেন্স ছারাই বহুদিন যাবত মানুষকে বোকাঁ বানিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানাযায় তার কাছে কেউ যদি বিপদে পরে কোন পরামর্শর জন্য যাওয়া হয়। ভন্ড কবিরাজ বলেন, আপনার রোগীর উপর জ্বীন ভর করছে, তখন মানুষ গুলো আতংক হয়ে পরেন, হুজুর এখন কি উপাই আপনি কি পারবেন, ভন্ড কবিরাজ বলেন আমিতোএই কাজ গুলো করিনা, আচ্ছা আপনি যেহেতু বলছেন তো আরকি করা আমি যাব তবে আমাকে (২২০০) টাকা দিতে হবে। কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে কাউকে কিছু বলা যাবেনা। তার পর আমি যাব রাত (১০-১১) ঘঠিকার সময় আমি যাব রোগীর ঘরে যেন কোন মানুষ না থাকে। রোগীর ঘরে মানুষ না থাকার কারণ হল যদি কেউ তার ভন্ডামী ধরে ফেলে। পরে আর কোথাও কোন ভন্ডামী করতে পারবেনা। সরেজমিনে দেখাযায় একই উপজেলার সলুকাবাদ ইউপির আক্তাপাড়া গ্রামের মৃত আজিম উদ্দীনের বাড়িতে ভন্ড কবিরাজী করে গেছেন। তার বাস্তব প্রমাণ হলো আজিম উদ্দীনের স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন সেখানে গিয়ে বলেন, রোগীর বিরাট সমস্যা রোগীকে জ্বীনে ধরেছে জ্বীন সরাতে হবে পরে রোগী ভাল হবে, এবং আমাকে (২২০০) টাকা দিতে হবে পরে সবাই রাজি হলে ভন্ড কবিরাজ ইসমাইল অনেক খুশি হয়েছেন রোজগার এর দরজা খোলে গেল। পরে ঐ ভন্ড কবিরাজ পানি পরা দিয়ে চলে যায় এবং বলেন জ্বীন সরানো আজকে সম্ভব না আগামীকাল তাবিজ উঠানো হবে। তখন রোগীর বাড়ির লোকজন এর কাছ থেকে অগ্রিম (১২০০) টাকা নিয়ে আসেন, পরের দিন এসে ভন্ডামী করে আরো (৮০০) টাকা নিয়ে চলে যান । কবিরাজ ইসমাইল জানান, আমি আক্তাপাড়া থেকে কোন টাকা নেয়নি আমাকে গাড়ি ভাড়া বাবত (৩০০) টাকা দিয়েছে কিন্তু রোগীর বাড়ির একজন নাম বলতে অনিচ্ছুক তিনি জানান সর্বমোট আমরা (২০০০) টাকা দিয়েছি

শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সাংবাদিকতা পেশা হচ্ছে সৎ এবং সততার উৎকৃষ্ট উপমা!

সাংবাদিকতা পেশা হচ্ছে সৎ এবং সততার উৎকৃষ্ট উপমা!

সাংবাদিকরা সমাজের অসঙ্গতি গুলো তুলে আনবেন সঠিক, যুক্তিযুক্ত ও উপযুক্ত তথ্য প্রমাণাদি দিয়ে।
 একজন সাংবাদিক যদি কোনো নির্দোষ ব্যাক্তিকে সামাজিক ভাবে হেয় করে তবে সেই সাংবাদিককে কেন খারাপ বলবে না???
সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করবে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণাদির ভিত্তিতে। আর সেই সংবাদ যদি সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণে করা হয় সেটা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনবে।
যে সংবাদে সত্য থাকে না, সেটিকে সাংবাদিকতা বলা যাবে না। সেটিকে বলা হয় অপসাংবাদিকতা।
কোন প্রমাণ ছাড়া মনগড়া ও উদ্দেশ্যমূলক রিপোর্ট সাংবাদিকতার নামে চরম অজ্ঞতা!!!
বি: দ্র: আমি মিথ্যাকে মিথ্যা বলি, আর সত্যকে সত্য বলি এবং সম্মান করি!!! কাউকে পরোয়া করিনা।

শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধে দুর্নীতি :  অধিকাংশ আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে

হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধে দুর্নীতি : অধিকাংশ আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে

সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দুদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির দায়েরকৃত মামলার অধিকাংশ আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা যায়, হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত শেষে ৪৬ জন ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ কর্মকর্তাকে আসামি করে গত ২ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় বাদী হন দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ। এর আগে হাওরের দুর্নীতির বিষয়ে ১৩ এপ্রিল তদন্ত কমিটি গঠন করে অনুসন্ধানে নেমেছিল দুদক। মামলাটি দায়ের করার পর কয়েকদিনের মাথায় গ্রেফতার করা হয় মামলার প্রধান আসামি সুনামগঞ্জ পাউবো’র বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন ও ঠিকাদার বাচ্চু মিয়াকে। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর যাওয়ার চেষ্টাকালে গ্রেফতার হন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও ঠিকাদার খায়রুল হুদা চপল। এরপর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও আর কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি।
দুদকের মামলার পাশাপাশি একই অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হক বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটি নিয়েও কাজ করছে দুদক। দুদকের পক্ষ থেকে মামলাটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা হলেও এখনো পর্যন্ত বাকি অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দ্বিতীয় মামলার বাদী জেলা আইজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হক।
তিনি বলেন, ‘এতোবড় একটা ঘটনায় দুর্নীতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরেও মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে দিবালোকে এলাকাতেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঠিকাদার ও পিআইসির গাফিলতি, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে গত ২৯ মার্চ থেকে সুনামগঞ্জে অসময়ে হাওরের একমাত্র বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই সুনামগঞ্জের ৯০ ভাগ হাওর তলিয়ে যায়। হাওরের দুর্গতদের অবস্থা দেখতে গত ১৭ এপ্রিল মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জে সফর করেন।
৩০ এপ্রিল শাল্লায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওররক্ষা বাঁধের কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর আগে ২০ এপ্রিল সুনামগঞ্জের হাওরে তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের তদন্ত কমিটির প্রধান বেলাল হোসেন দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে হাওররক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৩ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন পরিচালক মো. বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। গত ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাওরে সরেজমিন পরিদর্শন করে ওই কমিটি। পরবর্তীতে দুদক পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাদের কাছ থেকে এ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করে। এর আগে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় গত ৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খলিলুর রহমানকে প্রধান করে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির তদন্তকাজে ধীরগতির কারণে গত ২ মে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সুনামগঞ্জের প্রাক্তন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী খানের নেতৃত্বে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ওই কমিটি গত ৭ মে সুনামগঞ্জে এসে টানা তিনদিন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি-অভিযোগ বিষয়ে কথা বলে। পরে তদন্ত কমিটি সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরে কয়েকটি হাওর সরেজমিন পরিদর্শন করে। ওই কমিটি গত ২২ জুন ১৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে পাউবোর ব্যর্থতা, ঠিকাদার ও পিআইসিদের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর থানায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুদকের মামলায় প্রধান আসামি করা হয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ অফিসের বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দিনকে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের আরো ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে যারা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। তারা হলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকার, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস, খলিলুর রহমান, সেকশন কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ, ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ খান, খন্দকার আলী রেজা, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. শাহ আলম, বরকত উল্লাহ ভূইয়া, মো. মাহমুদুল করীম, মো. মোসাদ্দেক, সজীব পাল ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
মামলার বাকি ৪৬ জন আসামিরা হলেন ঠিকাদার গুডম্যান এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মো. আফজালুর রহমান, মেসার্ম খন্দকার শাহীন আহমদ-এর সত্বাধিকারী খন্দকার শাহীন আহমেদ, মাহিন কন্সট্রাকশনের সত্বাধিকারী মো. জিল্লুর রহমান, মেসার্স সজিব রঞ্জন দাস-এর সত্বাধিকারী সজিব রঞ্জন দাস, শহরের স্টেশন রোড এলাকার মেসার্স এলএন কন্সট্রাকশনের সত্বাধিকারী পার্থ সারথী পুরকায়স্থ, মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী হান্নান আহমেদ, স্টেশন রোড এলাকার নূর ট্রেডিংয়ের সত্বাধিকারী জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল, কামাল হোসেন, ষোলঘর এলাকার কাজী নাসিম উদ্দিন, খন্দকার আলী হায়দার, মেসার্স আকবর আলী কন্সট্রাকশনের সত্বাধিকারী মো. আকবর আলী, আমিন এন্ড কোং-এর সত্বাধিকারী মো. রবিউল আলম, মেসার্স বোনাস ইন্টারন্যাশনাল-এর সত্বাধিকার মো. আবুল হোসেন, সুনামগঞ্জ শহরের স্টেশন রোড এলাকার মেসার্স বসু নির্মাণ সংস্থা’র সত্বাধিকারী শিবব্রত বসু, জামাইপাড়া এলাকার মেসার্স হাছান এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক, মেসার্স ইব্রাহীম ট্রেডার্স এন্ড মো. শামীম আহসান-এর সত্বাধিকারী মো. বাচ্চু মিয়া, মেসার্স এম. রহমান-এর সত্বাধিকারী শেখ মো. মিজানুর রহমান, স্টেশন রোড এলাকার মাহবুব এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী আবুল মহসীন মাহবুব, নতুনপাড়া এলাকার মেসার্স মালতী এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী বিপ্রেশ রায় বাপ্পী, জামিল ইকবাল, মেসার্স নিম্মি এন্ড মুমু-এর সত্বাধিকারী চিন্ময় কান্তি দাস, মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী নিয়াজ আহমেদ খান, নতুনপাড়া এলাকার মেসার্স প্রীতি এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মিলন কান্তি দে, মেসার্স আর আর ট্রেডিংয়ের সত্বাধিকারী খান মো. ওয়াহিদ রনি, আরপিননগর এলাকার মেসার্স সোয়েব এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মো. সোয়েব আহমেদ, মেসার্স ইউনুস এন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের সত্বাধিকারী মো. ইউনুস, আব্দুল কাইয়ুম, নতুনপাড়া এলাকার আতিকুর রহমান, মো. গোলাম সারোয়ার, মো. খায়রুজ্জামান, মো. মফিজুল হক, মো. মোখলেছুর রহমান, উকিলপাড়া এলাকার মো. নুরুল হক, বড়পাড়া এলাকার মো. রেনু মিয়া, মো. শাহরিন হক মালিক, মো. শামসুর রহমান, আব্দুল মান্নান, মকসুদ আহমেদ, মো. সাইদুল হক, মো. মাহতাব চৌধুরী, কাজী হাসিনা আফরোজ, শেখ আশরাফ উদ্দিন, লুৎফুল করীম, হাজী মো. কেফায়েতুল্লাহ, হুমায়ুন কবীর ও মো. ইকবাল মাহমুদ। এর মধ্যে ৩জন বাদে বাকি সবাই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
এদিকে অভিযুক্ত আসামিরা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হাওরবাসী।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন কমিটির জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম- গাফিলতি আর দুর্নীতির কারণে হাওরে কৃষকদের শতভাগ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন করে আসছি। আমাদের দাবি- যাদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে আমাদের একশোভাগ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে তাদের বিচার করতে হবে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ পর্যন্ত তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন তারা কারাগারে আছেন। বাকিরা এখনো আড়ালেই রয়ে গেছেন। আমরা আশা করবো তাদেরকে যেন গ্রেফতার করা হয়। আমরা চাই আগামীতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় এবং কৃষকরা যেন তাদের ফসল ঘরে তোলতে পারেন। সত্যিকারভাবেই যেন বাঁধ নির্মাণ হয়, অফিসে বসে কাগজে কলমে টেবিলের ওপর যেন বাঁধ না হয় সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে’।
দুদকের তদন্ত কমিটি গঠনের পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দিনকে গত ১৫ এপ্রিল সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে আফসার উদ্দিনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিন প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে বরখাস্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটিগুলোর তথ্যানুযায়ী ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে সরকার সুনামগঞ্জের হাওরের (বৃহত্তম) ৩৯টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে সর্বমোট ৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে দুটি প্যাকেজ দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এক ঠিকাদার একাধিক হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ পান। ওই অর্থ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ২৩৮টি প্রকেল্প ৮৫ কি.মি. দৈর্ঘ্যরে ৮২০টি ভাঙ্গাবন্ধকরণ কাজ করে। ঠিকাদাররা ৮০৪ কি.মি. কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার ও পিআইসির কেউই যথাসময়ে কাজ শুরু করেনি।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী এ বছর সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৭২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি হিসেবে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬১২ হেক্টর জমির বোরো ডুবে যাওয়ার কথা বলা হলেও বেসরকারি হিসেবে সম্পূর্ণ ফসলই তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার। সরকারি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার কৃষক পরিবার। তবে, আবারো যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, আগে যে নীতিমালায় কাজ হতো এবার তাতে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ‘জমি যার বাঁধ তার’ এ স্লোগানকে সামনে রেখেই নতুন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে এবং এটি অনুমোদন হয়ে গেছে। এখন যে জমির মালিক সেই বাঁধের মালিক। সে নিজে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর টেন্ডার প্রক্রিয়াটা খুব সম্ভবতো বাদ যাচ্ছে। আমরা আর কখনো টেন্ডারে যাবো না। আর আমরা নদী খননের কাজেও হাত দিয়েছি। বাঁধের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জনবলও বাড়ছে। আমরা চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে দিয়েছি ঠিকাদারদের ব্যাপারে যে, তাদের সঙ্গে কেনো আমাদের চুক্তি বাতিল করা হবে না? সে চিঠির পর ২৮ দিন সময় দিতে হয়। এরপর আমরা তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি বাতিল করবো।
দুদকের মামলা ও আইনজীবী সমিতির দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ দুদককে সহযোগিতা করছে বলে জানালেন সুনামগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ। তিনি বলেন, দুদক তাদের নিজেদের দায়েরকৃত মামলাসহ সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির মামলাটি নিয়েও কাজ করছে। দুদক যখন তাদের কার্যক্রমে পুলিশের সহযোগিতা চায় আমরা সর্বাত্মকভাবে তাদের সহযোগিতা করে থাকি। পাশাপাশি পুলিশও স্বপ্রণোদিত হয়ে এসব এজাহারে অভিযুক্ত আসামিদের খোঁজে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সচিব ড. মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, আসামিদের ধরতে কার্যক্রম চালাচ্ছে দুদক। তিনি বলেন, ‘দেশীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা। কাজেই এটাকে কোনভাবেই আমরা খাটো করে দেখছিনা। কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন যে মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বা যথাযথ মনিটরিং করেননি তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবার জন্যে কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে সুপারিশপত্র পাঠানো হয়েছে’।