শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধে দুর্নীতি : অধিকাংশ আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে

সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দুদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির দায়েরকৃত মামলার অধিকাংশ আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা যায়, হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়ে তদন্ত শেষে ৪৬ জন ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ কর্মকর্তাকে আসামি করে গত ২ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় বাদী হন দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ। এর আগে হাওরের দুর্নীতির বিষয়ে ১৩ এপ্রিল তদন্ত কমিটি গঠন করে অনুসন্ধানে নেমেছিল দুদক। মামলাটি দায়ের করার পর কয়েকদিনের মাথায় গ্রেফতার করা হয় মামলার প্রধান আসামি সুনামগঞ্জ পাউবো’র বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন ও ঠিকাদার বাচ্চু মিয়াকে। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর যাওয়ার চেষ্টাকালে গ্রেফতার হন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও ঠিকাদার খায়রুল হুদা চপল। এরপর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও আর কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি।
দুদকের মামলার পাশাপাশি একই অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করে সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হক বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটি নিয়েও কাজ করছে দুদক। দুদকের পক্ষ থেকে মামলাটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা হলেও এখনো পর্যন্ত বাকি অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দ্বিতীয় মামলার বাদী জেলা আইজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হক।
তিনি বলেন, ‘এতোবড় একটা ঘটনায় দুর্নীতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরেও মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে দিবালোকে এলাকাতেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঠিকাদার ও পিআইসির গাফিলতি, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে গত ২৯ মার্চ থেকে সুনামগঞ্জে অসময়ে হাওরের একমাত্র বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই সুনামগঞ্জের ৯০ ভাগ হাওর তলিয়ে যায়। হাওরের দুর্গতদের অবস্থা দেখতে গত ১৭ এপ্রিল মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জে সফর করেন।
৩০ এপ্রিল শাল্লায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওররক্ষা বাঁধের কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর আগে ২০ এপ্রিল সুনামগঞ্জের হাওরে তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের তদন্ত কমিটির প্রধান বেলাল হোসেন দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে হাওররক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে গত ১৩ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন পরিচালক মো. বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। গত ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাওরে সরেজমিন পরিদর্শন করে ওই কমিটি। পরবর্তীতে দুদক পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাদের কাছ থেকে এ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করে। এর আগে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় গত ৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. খলিলুর রহমানকে প্রধান করে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির তদন্তকাজে ধীরগতির কারণে গত ২ মে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সুনামগঞ্জের প্রাক্তন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী খানের নেতৃত্বে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ওই কমিটি গত ৭ মে সুনামগঞ্জে এসে টানা তিনদিন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি-অভিযোগ বিষয়ে কথা বলে। পরে তদন্ত কমিটি সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরে কয়েকটি হাওর সরেজমিন পরিদর্শন করে। ওই কমিটি গত ২২ জুন ১৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে পাউবোর ব্যর্থতা, ঠিকাদার ও পিআইসিদের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।
সুনামগঞ্জ সদর থানায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুদকের মামলায় প্রধান আসামি করা হয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ অফিসের বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দিনকে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের আরো ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে যারা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। তারা হলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকার, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস, খলিলুর রহমান, সেকশন কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ, ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ খান, খন্দকার আলী রেজা, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. শাহ আলম, বরকত উল্লাহ ভূইয়া, মো. মাহমুদুল করীম, মো. মোসাদ্দেক, সজীব পাল ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
মামলার বাকি ৪৬ জন আসামিরা হলেন ঠিকাদার গুডম্যান এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মো. আফজালুর রহমান, মেসার্ম খন্দকার শাহীন আহমদ-এর সত্বাধিকারী খন্দকার শাহীন আহমেদ, মাহিন কন্সট্রাকশনের সত্বাধিকারী মো. জিল্লুর রহমান, মেসার্স সজিব রঞ্জন দাস-এর সত্বাধিকারী সজিব রঞ্জন দাস, শহরের স্টেশন রোড এলাকার মেসার্স এলএন কন্সট্রাকশনের সত্বাধিকারী পার্থ সারথী পুরকায়স্থ, মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী হান্নান আহমেদ, স্টেশন রোড এলাকার নূর ট্রেডিংয়ের সত্বাধিকারী জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল, কামাল হোসেন, ষোলঘর এলাকার কাজী নাসিম উদ্দিন, খন্দকার আলী হায়দার, মেসার্স আকবর আলী কন্সট্রাকশনের সত্বাধিকারী মো. আকবর আলী, আমিন এন্ড কোং-এর সত্বাধিকারী মো. রবিউল আলম, মেসার্স বোনাস ইন্টারন্যাশনাল-এর সত্বাধিকার মো. আবুল হোসেন, সুনামগঞ্জ শহরের স্টেশন রোড এলাকার মেসার্স বসু নির্মাণ সংস্থা’র সত্বাধিকারী শিবব্রত বসু, জামাইপাড়া এলাকার মেসার্স হাছান এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক, মেসার্স ইব্রাহীম ট্রেডার্স এন্ড মো. শামীম আহসান-এর সত্বাধিকারী মো. বাচ্চু মিয়া, মেসার্স এম. রহমান-এর সত্বাধিকারী শেখ মো. মিজানুর রহমান, স্টেশন রোড এলাকার মাহবুব এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী আবুল মহসীন মাহবুব, নতুনপাড়া এলাকার মেসার্স মালতী এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী বিপ্রেশ রায় বাপ্পী, জামিল ইকবাল, মেসার্স নিম্মি এন্ড মুমু-এর সত্বাধিকারী চিন্ময় কান্তি দাস, মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী নিয়াজ আহমেদ খান, নতুনপাড়া এলাকার মেসার্স প্রীতি এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মিলন কান্তি দে, মেসার্স আর আর ট্রেডিংয়ের সত্বাধিকারী খান মো. ওয়াহিদ রনি, আরপিননগর এলাকার মেসার্স সোয়েব এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মো. সোয়েব আহমেদ, মেসার্স ইউনুস এন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের সত্বাধিকারী মো. ইউনুস, আব্দুল কাইয়ুম, নতুনপাড়া এলাকার আতিকুর রহমান, মো. গোলাম সারোয়ার, মো. খায়রুজ্জামান, মো. মফিজুল হক, মো. মোখলেছুর রহমান, উকিলপাড়া এলাকার মো. নুরুল হক, বড়পাড়া এলাকার মো. রেনু মিয়া, মো. শাহরিন হক মালিক, মো. শামসুর রহমান, আব্দুল মান্নান, মকসুদ আহমেদ, মো. সাইদুল হক, মো. মাহতাব চৌধুরী, কাজী হাসিনা আফরোজ, শেখ আশরাফ উদ্দিন, লুৎফুল করীম, হাজী মো. কেফায়েতুল্লাহ, হুমায়ুন কবীর ও মো. ইকবাল মাহমুদ। এর মধ্যে ৩জন বাদে বাকি সবাই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
এদিকে অভিযুক্ত আসামিরা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হাওরবাসী।
হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন কমিটির জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম- গাফিলতি আর দুর্নীতির কারণে হাওরে কৃষকদের শতভাগ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন করে আসছি। আমাদের দাবি- যাদের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে আমাদের একশোভাগ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে তাদের বিচার করতে হবে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ পর্যন্ত তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন তারা কারাগারে আছেন। বাকিরা এখনো আড়ালেই রয়ে গেছেন। আমরা আশা করবো তাদেরকে যেন গ্রেফতার করা হয়। আমরা চাই আগামীতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় এবং কৃষকরা যেন তাদের ফসল ঘরে তোলতে পারেন। সত্যিকারভাবেই যেন বাঁধ নির্মাণ হয়, অফিসে বসে কাগজে কলমে টেবিলের ওপর যেন বাঁধ না হয় সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে’।
দুদকের তদন্ত কমিটি গঠনের পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দিনকে গত ১৫ এপ্রিল সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে আফসার উদ্দিনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিন প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে বরখাস্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটিগুলোর তথ্যানুযায়ী ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে সরকার সুনামগঞ্জের হাওরের (বৃহত্তম) ৩৯টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে সর্বমোট ৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে দুটি প্যাকেজ দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এক ঠিকাদার একাধিক হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ পান। ওই অর্থ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ২৩৮টি প্রকেল্প ৮৫ কি.মি. দৈর্ঘ্যরে ৮২০টি ভাঙ্গাবন্ধকরণ কাজ করে। ঠিকাদাররা ৮০৪ কি.মি. কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদার ও পিআইসির কেউই যথাসময়ে কাজ শুরু করেনি।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী এ বছর সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮৭২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি হিসেবে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬১২ হেক্টর জমির বোরো ডুবে যাওয়ার কথা বলা হলেও বেসরকারি হিসেবে সম্পূর্ণ ফসলই তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার। সরকারি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার কৃষক পরিবার। তবে, আবারো যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, আগে যে নীতিমালায় কাজ হতো এবার তাতে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ‘জমি যার বাঁধ তার’ এ স্লোগানকে সামনে রেখেই নতুন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে এবং এটি অনুমোদন হয়ে গেছে। এখন যে জমির মালিক সেই বাঁধের মালিক। সে নিজে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর টেন্ডার প্রক্রিয়াটা খুব সম্ভবতো বাদ যাচ্ছে। আমরা আর কখনো টেন্ডারে যাবো না। আর আমরা নদী খননের কাজেও হাত দিয়েছি। বাঁধের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জনবলও বাড়ছে। আমরা চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে দিয়েছি ঠিকাদারদের ব্যাপারে যে, তাদের সঙ্গে কেনো আমাদের চুক্তি বাতিল করা হবে না? সে চিঠির পর ২৮ দিন সময় দিতে হয়। এরপর আমরা তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি বাতিল করবো।
দুদকের মামলা ও আইনজীবী সমিতির দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ দুদককে সহযোগিতা করছে বলে জানালেন সুনামগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ। তিনি বলেন, দুদক তাদের নিজেদের দায়েরকৃত মামলাসহ সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির মামলাটি নিয়েও কাজ করছে। দুদক যখন তাদের কার্যক্রমে পুলিশের সহযোগিতা চায় আমরা সর্বাত্মকভাবে তাদের সহযোগিতা করে থাকি। পাশাপাশি পুলিশও স্বপ্রণোদিত হয়ে এসব এজাহারে অভিযুক্ত আসামিদের খোঁজে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সচিব ড. মোহাম্মদ শামসুল আরেফিন জানিয়েছেন, আসামিদের ধরতে কার্যক্রম চালাচ্ছে দুদক। তিনি বলেন, ‘দেশীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা। কাজেই এটাকে কোনভাবেই আমরা খাটো করে দেখছিনা। কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন যে মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বা যথাযথ মনিটরিং করেননি তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবার জন্যে কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে সুপারিশপত্র পাঠানো হয়েছে’।

শেয়ার করুন

0 Comments: