শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রাস্তা গুলোর খবর কেউ নিচ্ছে না

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রাস্তা গুলোর খবর কেউ নিচ্ছে না

সুনামগঞ্জের আলো ডেস্ক:

বিশ্বম্বরপুর উপজেলার যে কয়টি রাস্তা রয়েছে তার মধ্যে সলুকাবাদ ইউ/পির চালবন পয়েন্ট থেকে শুরু করে বাঘবেড় বাজার দিয়ে মতুরকান্দি বাজার পর্যন্ত । রাস্তার বেহাল দশা । যেমন সরু তেমন ঘটে দুর্ঘটনা একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটার র্পও শুরু হয়নি উন্নয়নের কাজ । তারই ধারাবাহিক প্রতিবেদন লেকার র্পও নজর দিচ্ছেনা সরকার । যে কারনে লেখা হচ্ছে এই প্রতিবেদন । যেমন একটি গাড়ি চলাচল করলে আরেক টি গাড়ি চলাচল করা একেবারেই
সম্বব না । তার র্পও চলতে হয় এই ইউ/পির অসহায় মানুষদের । কিন্তু কে নিবে এই সাধারন মানুষের খবর । সাধারন মানুষ বলছে নির্বাচন আসলেই অনেকেই বলে রাস্তা গুলো মেরামত করে দিবে এলাকার উন্নয়ন করবে, কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে কেউ রাস্তা গুলোর খবর নেয়না এমন অবিযোগ অনেকেরই আছে। রাস্তা গুলো বিশেষ করে বড় গাড়ি গুলো এসে নষ্ট হচ্ছে । যেমন ছোট টমটম বা সিএনজি চলার মত রাস্তা, আর এখানে চলে বড়বড় গাড়ি যেমন ট্রলি বাস ট্রাক সহ বিভিন্ন প্রকার গাড়ি,  আর এই গাড়ি গুলো কে পাস দিতে হলে নির্ধিষ্ট একটি যায়গায় দাড়িয়ে পাস দিতে হয় । তারর্পও শেষ রক্ষা হয়না উল্টে পরতে হয় রাস্তার বাইরে।

বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রুহিঙ্গা নয় ওরা মানুষ

রুহিঙ্গা নয় ওরা মানুষ


লেখক: জীবন কৃষ্ণ সরকার

লিখাটা এমন এক সময় লিখছি যখন কেবল সারা দেশই নয়, বলা যায় পুরু বিশ্বটাই এখন রুহিঙ্গা ইস্যুতে জড়িয়ে পড়েছে।প্রতি দিনকার খবরের কাগজগুলোই তার প্রমাণ।আর বাংলাদেশ তো এর কেন্দ্র বিন্দুতেই রয়েছে।যাহোক বিবেকের তাড়নায় এতদবিষয়ে আজ দুচারটি কথা আপনাদের শেয়ার করতে বসছি
রুহিঙ্গা কারা?
রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠী পশ্চিম
মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি উলেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। রোহিঙ্গাদের আলাদা ভাষা থাকলেও তা অলিখিত। মায়ানমারের আকিয়াব, রেথেডাং,
বুথিডাং , মংডু, কিয়কতাও, মাম্ব্রা, পাত্তরকিল্লা, কাইউকপাইউ, পুন্যাগুন পাউকতাউ এলাকায় এদের নিরঙ্কুশ বাস। এছাড়া মিনবিয়া, মাইবন আন এলাকায় মিশ্রভাবে বসবাস করে থাকে। বর্তমান ২০১৭ সালে, প্রায় ,০০,০০০ রোহিঙ্গা মায়ানমারে বসবাস করে। মায়ানমার ছাড়াও লক্ষের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এবং প্রায় ৫লাখ সৌদিআরবে বাস করে বলে ধারনা করা হয় যারা বিভিন্ন সময় বার্মা সরকারের নির্যাতনের কারণে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী।
তাহলে ইতিহাস ঘাটলে এটাই প্রমানিত হয় যে এরা মায়ানমারেরই আদি জনগোষ্ঠী।যদিও পরে তারা ইসলাম ধর্মে দ্বীক্ষিত হয়েছে। (তথ্য সূত্র,গুগল,উইকিপিডিয়া)তাই এদের বসবাসের অধিকার বার্মিজরা কেড়ে নিতে পারেনা।এটা মানবতার স্পষ্ট লঙ্ঘন
গত কয়েক দিনের ঘটনা প্রবাহ লক্ষ করলে,দেশি মিডিয়াগুলোর কথা যদি বাদও দেই আন্তর্জাতিক  যেমন বিবিসি,রয়টার্স,ভয়েস অফ অ্যামেরিকা,ইত্যাদি মিডিয়াগুলোর কথাও যদি ধরি তবে একটি বিষয় অন্তত পরিষ্কার হওয়া যায় যে রুহিঙ্গাদের কোন দোষ ত্রুটির জের হিসেবে মায়ানমার এই হত্যা যজ্ঞ চালাচ্ছেনা বরং ওদের জাতিগত নির্মূলের উদ্যেশ্যেই নিরীহ রুহিঙ্গাদের হত্যা করছে বার্মিজ সরকার।এর প্রমাণ মিলাতে আমাদের খুব একটা বেগ পেতে হচ্ছেনা।যেমন- মায়ানমার বলছে সেনা চৌকিতে হামলা করে সেনা হত্যার প্রতিশোধের বদলা নিতেই তারা এমনটি করছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।কারণ গুটি কয়েকজন দোষী ব্যাক্তির জন্য পুরু জাতিকে নির্মূলের প্রক্রিয়া শুরু করা কোন সভ্য ব্যক্তি,সভ্য সমাজ তথা সভ্য জাতি সমর্থণ করতে পারেনা।এটা সম্ভব নয়।একটি সদ্যজাত সন্তান কখনো চেনেনা আরশা (ARSA-ARAKAN
ROHINGYA SALVATION  ARMY) কি, কখনো চেনেনা জঙ্গী হামলা কি? সুতরাং এমন নিঃষ্পাপ সন্তান গুলোকে  হত্যা করার বিধান  পৃথিবীর কোন ধর্মগ্রন্থে লিপি বদ্ধ আছে কিনা আমার জানা নেই।আর শুধু সন্তানই নয় তাদের হাতে দুধের বাচ্ছা থেকে শুরু করে ছেলে বুড়ো , নারী সবাই নির্যাতিত,নিহত হচ্ছে।অতএব এটা নিঃসন্দেহে একটি জগণ্য অপরাধ। আর নিরীহ রুহিঙ্গা হত্যার মধ্য দিয়ে মায়ানমার যে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছে তা বলতে আর বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই।এর প্রমাণ ভুরি ভুরি।যাহোক একটি ছোট্ট প্রমাণ আপনাদেরকে দিচ্ছি
মায়ানমার যেমন বৌদ্ধ রাষ্ট্র,শ্রীলংকাও তেমনি বৌদ্ধ রাষ্ট্র।অথচ শ্রীলংকার জাফনা দ্বীপের স্বাাধীনতা কামী দল LTTE (Leberation of Tamil Elom)  তামিল টাইগার্স বাহিনীর কথা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বুদ্ধাদের  কে না জানে? বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বাধীনতাকামী বিচ্ছিন্যতাবাদী গোষ্টীর মধ্যে তামিল টাইগার্স প্রথমটি।তাদের একটি পৃথক রেডিও ষ্টেশনও ছিল।জাফনায় তাদের জনসমর্থনও ছিল এমন কি বহির্বিশ্বে জনপ্রিয়তাও ছিল।ছিল নিজস্ব দখলকৃত এলাকা,অস্ত্র কারখানা।বলা হয়ে থাকে শ্রীলংকার সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমদাসা (১৯৯৩),ভারতের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রাজীব গান্ধী (১৯৯১) হত্যার মাঝেও তামিল টাইগাররা জড়িত ছিল।কই ? তারা তো প্রতিশোধ নিতে নিরীহ জাফনাবাসীদের হত্যা করেনি।তারা তো কখনো নিরীহ হিন্দুদের দেশ থেকে নির্মূলের পরিকল্পনা করেনিবরং তারা নিয়ম তান্ত্রিকভাবেই তামিল বাহিনীকে পরাস্ত্র করেছিল এবং তাদের নেতা ভেল্লুপিল্লাই প্রভাকরণকে হত্যার (১৮ মে,২০০৯) মধ্য দিয়ে তাদের বিজয় চিনিয়ে নিয়েছিল।তাদেরকে বলা যায় সাবাস।আর রুহিঙ্গাদের আরশা বাহিনীর তো না আছে জনসমর্থন,না আছে দখলকৃত এলাকা,না আছে অস্ত্রের সহজপ্রাপ্যতা তাহলে এমন একটা বাহিনীকে মোকাবিলা করতেই বার্মিজদের  নিরীহ মানুষ হত্যা শুরু করতে হলো? এতে কি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা প্রমানিত হলো না? আর যদি সেটাই না হবে তাহলে নিশ্চই এটা একটা পরিকল্পিত হত্যা কান্ড? আর আজকের এই সভ্য সমাজে একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড কখনোই মেনে নেয়া যায়না।কোথায় জাতিসংঘ,কোথায় আসিয়ান,কোথায় সার্ক,কোথায় ওয়াইসি ? কোথায় মানবতার জিন্দাবতার আমেরিকা? আপনারা একবার এসে দেখে যান রুহিঙ্গাদের বাস্তব পরিনতি
আজকের মায়ানমার ব্যবসা,বানিজ্য,রাজনীতি,অর্থনীতি কোনদিক দিয়েই একেবারে পিছিয়ে নেই।তবে মানবিকতার দিক দিয়ে যে ভিক্ষুকে পরিনত হয়েছে সেটা এখন আর কারো অজানা নয়।আমার এক পরিচিত বড় ভাই আক্ষেপ করেই বললেন-"এর চেয়ে যদি রুহিঙ্গাদের একবারে বোমা মেরে শেষ করে দিত তাইলেও ভাল হতো"এর চেয়ে লজ্জার আর কি থাকতে পারে? কতটুকু মনে কষ্ট পেলে মানুষ এমন ভাবতে পারে তা সময় থাকতে বুঝা উচিত। ৭১ পাকবাহিনীর অত্যাচারের কথা দাদা,দিদির কাছে, শুনেছি,সিনেমা, টেলিফিল্মেও কিছুটা দেখেছি।তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে রুহিঙ্গা গনহত্যা যেনো বিশ্বের সকল রেকর্ড ছাড়ালো। বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে পদার্থ বিজ্ঞানের নিউটনের তৃতীয় সূত্রটির কথা মনে পড়ে গেলো।সূত্রটি নিম্নরুপঃ-"প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে" এটা যদি সত্যি হয়(অবশ্যই সত্য) তবে এভাবে গন্যহত্যার পরিনাম পরম স্রষ্টা অবশ্যই আপনাদের দেবেন।খবরে প্রকাশ- লক্ষ রুহিঙ্গা যুবক পাহাড়ে, গুহায়,জঙ্গলে ট্রেণিং নিচ্ছে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য।স্ত্রী,সন্তান,মাতৃ-পিতৃহারা একজন যুবকের এমন প্রতিজ্ঞা হতেই পারে।তাদের স্পৃহা কি বন্দুক কামানে দমানো যাবে? দিকে আলকায়দাও হুমকি দিচ্ছে মায়ানমারকে দেখে নেয়ার।যদিও কোন সন্ত্রাসী সংগঠনের হুমকি আমাদের কারো জন্যই সুখকর নয় তবু এদের হাতে এমন ইস্যু তুলে দেয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ হলো?এতে মায়ানমারের শান্তির বাতাস কি সমান্তরালে চলমান থাকবে? তাই বলা যায় শান্তি কখনো দ্বন্ধ দিয়ে নয় সন্ধি দিয়ে,মিল মহব্বত দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে সৃষ্টি করতে হয়।এই কথাটি যত শীঘ্র বার্মিজরা উপলদ্ধি কতে পারবে ততই মঙ্গল।নতুবা অসময়ে ভোগতে হবে তাদেরকেই

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা ইতোমধ্যেই রুহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন,তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এজন্য সাধুবাদ জানাই।"মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য" ভূপেন হাজারিকার এই কথাটি যদি সত্য হয় তবে আমি বলব "ওরা রুহিঙ্গা নয় ওরা মানুষ"আর তাই এমন  বিপদে অবশ্যই  আমাদের তাদের পাশে  দাঁড়ানো উচিত।তবে অত্যন্ত সতর্কতার সহিত তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ রেখে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে শীঘ্রই রুহিঙ্গাদের তাদের আবাস ভূমে ফিরিয়ে দেয়া উচিত নতুবা অতি আবেগে খাল কেটে কুমীর আনার সমান হয়ে যেতে  পারে।তাই এব্যাপারে দলমতের ঊর্ধে থেকে আমাদের সকলেরই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
পরিশেষে পরম স্রষ্টার কাছে সকল রুহিঙ্গা ভাই-বোনদের মঙ্গল কামনা করছি, সেই সাথে বার্মিজদের শুভ বুদ্ধির উদয় কামনা করছি

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

জামালগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং এর মতবিনিময়

জামালগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং এর মতবিনিময়

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এই শ্লোগান কে সামনে রেখে জামালগঞ্জ থানা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট রেঞ্চ’র উপমহা পুলিশ পরিদর্শক মো: নজরুল ইসলাম বলেন, জনগনের সেবার মহান ব্রত নিয়েই পুলিশ বাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলার কাজ করে যাচ্ছে। পোশাক ধারী ব্যাক্তি যদি কারো কাছে হাত পাতে, তার প্রতি জনগনের সম্মান বোধ থাকেনা। পুলিশকে সহায়তার করার জন্যই জনগনকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি পুলিশিং চালু করা হয়েছে। তিনি সুনামগঞ্জের নৌ-পথে চাঁদাবাজির বিষয়ে বলে গত বছর চাঁদাবাজির ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পরই সরেজমিন এসে এর ব্যবস্থা নিয়েছি। এখনো যদি চাঁদাবাজি হয় শক্ত হাতে দমন করা হবে। জামালগঞ্জকে মাদক মুক্ত উপজেলা গড়তে হবে। তিনি আরো বলেন, যুব-ছাত্র সমাজকে মাদকাসক্ত থেকে বিরত রাখতে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। স্ব-স্ব ধর্মে অনুপ্রানিত থাকলে অপরাধ কর্ম কমে যাবে দেশে আরো সুষ্ঠ ও শান্তি পূর্ণভাবে পরিচালিত হবে, সমৃদ্ধির পথে আমরা আরো এগিয়ে যাবো। উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি করুনা সিন্ধু তালুকদারের সভাপতিত্বে ও জামালগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমান সিদ্দিকী এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ মো: আবুল হাশেম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: বরকত উল্লাহ্ খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন দাস, তাহিরপুর সার্কেল অফিসার কানন কুমার দেবনাথ, জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা আক্তার দিপু, উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তি যোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ, সুনামগঞ্জ জেলা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব রেজাউল করিম শামীম, উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: রজব আলী, সুনামগঞ্জ জেলা কৃষকলীগের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এড.আসাদ উল্লাহ সরকার। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, ব্যবসায়ী পঙ্কজ পাল চৌধুরী, সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি ওয়ালী উল্লাহ সরকার, যুগান্তর প্রতিনিধি ও ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান, আ’লীগ নেতা জামিল আহম্মেদ জুয়েল, সুবোধ তালুকদার, সাবেক ইউপি সদস্য করিব আহম্মদ ও কামরুজ্জামান মন্টু মিয়া, কাশেম আখঞ্জি, ছাত্র জমিয়ত নেতা মো: আলতাফুর রহমান, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। 
ধর্মপাশায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওএমএসের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

ধর্মপাশায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওএমএসের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ওএমএসের তিনজন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল তাদেরকে না জানিয়ে তা তিনি নিজেই উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত অকাল বন্যায় উপজেলার কৃষকের একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর সরকারিভাবে কৃষকদের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই লক্ষে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১১ জন ওএমএসের ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। আর প্রত্যেক ডিলার প্রতিদিন ১৫ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে ৫ কেজি করে ২ শত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষদের মধ্যে চাল বিক্রি করে আসছে। কিন্তু খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ধর্মপাশা উপজেলা উপ-খাদ্য পরিদর্শক) গোলাম কিবরিয়া উপজেলার মধ্যনগর সদর ইউপি’র ডিলার শাখাওয়াত হোসেন, দক্ষিণ বংশিকুন্ডা ইউপির ডিলার রাজু আহম্মেদ ও বংশিকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ওএমএসে ডিলার আব্দুর রাজ্জাক ওই তিন ডিলারের নামে চলতি মাসের ১৪-১৫ তারিখে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খোলা বাজারে বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল ওই তিন ডিলারকে না জানিয়েই তিনি চলতি মাসের ১৩ তারিখে তাদের নামে ব্যাংকে চালান জমা দিয়ে তিনি বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে তা নিজেই আত্মসাত করেন।
গতকাল সোমবার সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে ধর্মপাশা সোণালী ব্যাংকে গিয়ে জানা যায়,খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা চলতি মাসের ১৩ তারিখে তিনি ওএমএস ডিলার আব্দুর রাজ্জাক, রাজু আহম্মেদ ও ডিলার শাখাওয়াত হোসেনের নামে ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর চালান মূলে ওই তিন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলণের জন্য  ৮১ হাজার টাকা তিনি জমা দেন।
এদিকে ওই তিন ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চলতি মাসের ১৪-১৫ তারিখে খোলা বাজারে চাল কিনতে না পারায় তাদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়াতেই তার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পায়না। তিনি এলাকার কালোবাজারিদের সাথেও সখ্য গড়ে তুলেছেন বলেও একাধিক সূত্রে জানা যায়। এমনকি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে একাধিকবার আর্থিক জরিমানাও গুণতে হয়েছে তাকে।
উপজেলার বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওএমএস ডিলার রাজু আহম্মেদ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, চলতি মাসের ১৪-১৫ তারিখের জন্য আমার নামে বরাদ্দকৃত ২ মেট্রিক টন চালের টাকা ১৩ তারিখে ব্যাংকে জমা না দেয়ার জন্য খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজেই আবার ১৩ তারিখে আমার নামে বরাদ্দকৃত চালের টাকা আমার অগোচরে ব্যাংকে জমা দিয়ে উক্ত চাল উত্তোলণ করে নিয়েছেন। আর এ জন্য দুইদিন খোলাবাজারে চাল বিক্রি করতে না পারায় এলাকার ভূক্তভোগীদের চাপ সামলাতে হচ্ছে আমাকে। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলার মধ্যনগর ইউপির ডিলার শাখাওয়াত হোসেন ও বংশিকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ডিলার আব্দুর রাজ্জাক।
উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া তার বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ৩ জন ডিলারের নামে ১৪-১৫ তারিখে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চালের টাকা ধর্মপাশা সোণালী ব্যাংকে জমা দিয়েছি এবং উক্ত চাল আমার গুদামেই রয়েছে। তবে পরিবহনের সমস্যার কারণে ডিলাররা ওই চাল নিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাঈমা খন্দকার জানান, বিষয়টি তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  নেয়া হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো.জাকারিয়া মোস্তফার কাছে  মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার পর তদন্তে প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বড় দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা করছে সরকার -টিআইবি

বড় দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা করছে সরকার -টিআইবি



সু.খবর ডেস্ক

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বড় দুর্নীতিবাজদের সরকার সুরক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। রবিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে টিআইবির সম্মেলন কক্ষে ‘টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট ১৬: দুনীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যের ওপর বাংলাদেশের প্রস্তুতি, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদ পেশ করে টিআইবি। গবেষণাটি এবছর এপ্রিল থেকে আগস্ট সময়ের মধ্যে পরিচালিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির প্রতিবেদন তুলে ধরে সংস্থাটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম বলেন, বাংলাদেশে নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার প্রবণতা বিদ্যমান। দেশে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। ২০১৬ সালে ১৯৫ জন এবং ২০১৫ সালে ১৯২ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা উদ্বেগজনক অপব্যবহার করা হচ্ছে। জাতীয় শুদ্ধাচার কাঠমোর অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকর নয়। এর পেছনে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব, কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, নির্বাহী বিভাগ ও প্রশাসনের আধিপত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশে আইনের প্রয়োগ সীমিত বা চর্চায় ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়াও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনের অপব্যবহার পরিলক্ষিত হয়েছে। দলীয় বিবেচনায় আইনের প্রয়োগ হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও বাংলাদেশে দুর্নীতি ও ঘুষ, অর্থপাচার, মৌলিক স্বাধীনতার ব্যত্যয় ও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকর নয় এবং এজন্য দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব, কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা, নির্বাহী বিভাগ ও প্রশাসনের আধিপত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতার কোনো কাঠামো নেই এবং এসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ব্যবস্থাও দুর্বল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশও পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারসহ কয়েকটি বিষয়ে সরকারের কাছে আংশিক তথ্য থাকলেও দুর্নীতি ও ঘুষ, সরকারি সেবা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের সন্তুষ্টি এবং বিচার-বহির্ভূত হত্যাকা- বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। সার্বিকভাবে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য ২৪১টি সূচকের মধ্যে সরকারের কাছে ৭০টি সূচকের ওপর সম্পূর্ণ এবং ১০৮টি সূচকের ওপর আংশিক তথ্য রয়েছে। ৬৩টি সূচকের ওপর সরকারি কোনো তথ্য নেই।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, যারা বড় ধরনের অর্থ পাচার করেন তাদের আইনের আওতায় না এনে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। দলীয় রাজনীতির কুপ্রভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশিত পর্যায়ে কার্যকারিতা নয়।  এছাড়া, জনগণের মৌলিক স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনাসমূহ তদন্ত ও ফলাফল প্রকাশে সদিচ্ছা ও স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং ব্যাংক খাতের কেলেংকারিগুলোর দোষীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার মতো উদাহরণ সার্বিকভাবে অভীষ্ট অর্জনের অগ্রগতির সাথে সাংঘর্ষিক। এক্ষেত্রে এসডিজির মূল লক্ষ্য ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়’ -এর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে অগ্রসর হতে হবে।’
টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাড. সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশে সব স্তরে বৈষম্য-বিভাজন ও অনিয়ম বিদ্যমান। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। সব জায়গায় এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে নানামুখি পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বিভিন্ন জরিপ ও তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে এর সুফল সকল ক্ষেত্রে জনগণ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য সব পরিকল্পনা, কার্যক্রম ও কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’  
টিআইবি আইনি সংস্কারের সুপারিশে করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল চেয়েছে। নির্বাচন কমিশনের গঠন, কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম নিয়ে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। দুর্নীতি দমনে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের সুপারিশ করেছে।
এ ছাড়াও সংস্থাটি সবধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও পুলিশি হেফাজতে মত্যুর তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।
গবেষণায় দুর্নীতি ও ঘুষ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ পাওয়া গিয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য না হওয়া; বিদ্যমান আইনে কয়েকটি বিভাগের কর্মচারীদের আওতামুক্ত রাখা; স্বার্থের দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত প্রদত্ত বিবরণ প্রকাশে সরকারি কর্মচারীদের বাধ্যবাধকতা না থাকা; নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্যদের আর্থিক তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকা; জনস্বার্থ সুরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে পেশাগত বাধ্যবাধকতা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, তথ্য প্রকাশকারী কোনো সমস্যায় পড়লে তার প্রতিকার, অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্বচ্ছ, কার্যকর ও সময়োপযোগী পদ্ধতির অনুপস্থিতি; দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বেনামি মালিকানার তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা না থাকা; সরকারি ক্রয়ে গোপন আঁতাত বন্ধ করার জন্য কোনো বিধান না থাকা এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য অবসর গ্রহণের পর একই খাতের বেসরকারি কোনো চাকরিতে যোগদানের পূর্বে কতদিন ব্যবধান থাকতে হবে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকা।
তবে গবেষণায় সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৬ সালে প্রাপ্ত ১২ হাজার ৫৬৮টি অভিযোগের মধ্যে এক হাজার ৫৪৩টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে ৫৪৩টি অভিযোগ প্রেরণ করা হয়। এর আগে প্রতি বছর গড়ে এক হাজার ২০টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হতো। ২০১৬ সালে ৩৫৯টি অবৈধ উপায়ে সুবিধা লাভ সংক্রান্ত মামলা নথিভুক্ত করার পাশাপাশি ঘুষ নেয়ার জন্য ১৩ জনকে আটক ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ অবৈধ উপায়ে সুবিধা লাভ সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় ৩৮৮ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া, দুর্নীতির অভিযোগ জানানোর জন্য দুদক কর্তৃক সম্প্রতি হটলাইন চালু করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ওয়াহিদ আলম এবং এ এস এম জুয়েল মিয়া।

সুনামগঞ্জে মদ সহ আটক-২

সুনামগঞ্জে মদ সহ আটক-২

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পুরাতন বাসষ্টেশন এলাকা থেকে গতকাল শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ৪০ লিটার দেশীয় মদ একটি সিএনজি সহ ২জন কে আটক করে সুনামগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ সুত্রে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর মডেল থানার এস আই প্রদীপ সঙ্গিয় ফোর্স নিয়ে একটি সিএনজিতে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ লিটার দেশীয় মদ সহ আটক করে দুজনকে  তারা হলেন জামালগঞ্জ থানার দক্ষিন কামলাবাজ গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে জহিরুল হক (২৮) ও  দাসহাটি গ্রামের সন্তোষ দাসের ছেলে পরিতোষ দাস রুবেল (২৪) কে ।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাসুক আলম আটকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে।
জামালগঞ্জের বদলি শিক্ষক দিয়েই চলছে স্কুলের পাঠদান

জামালগঞ্জের বদলি শিক্ষক দিয়েই চলছে স্কুলের পাঠদান

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সরকারি নিয়োগকৃত নির্ধারিত শিক্ষকের বদলে বদলি (প্রাথমিক শিক্ষক) দিয়ে চলছে চার গ্রামে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান।
জানাযায়, শ্রীমন্তপুর,শুকদেবপুর,যশমন্তপুর, রামপুর এ চার গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষক নিয়োগকৃত আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হাফিজা বেগম নিজে বিদ্যালয়ে না গিয়ে তার স্বামী রুবেল আহম্মেদকে দিয়ে পাঠ দান করান। গত ১৪ সেপেম্বর বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায় ভারপ্রপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নিশা রাণী বর্মন একাই বিদ্যালয়ে পাঠ দান করছেন। সহকারী শিক্ষিকা হাফিজা আক্তারের অনুপস্থিথির বিষয়ে জানতে চাইলে নিসা রাণী বর্মন জানান তিনি অসুস্থতার জন্য ছুটিতে আছেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্ধা শ্যমল বর্মন, সুষেণ বর্মন, রবি বর্মন, রুপন বর্মণ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, হাফিজা বেগম বিগত কয়েক মাস ধরে স্কুলে আসেন না। তার পরিবর্তে উনার স্বামী রুবেল আহম্মদ স্কুল চালান। শিক্ষিকার অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা চরম ভাবে বিঘিœত  হচ্ছে। এমন খবরের ভিত্তিতে গণমাধ্যমকর্মীরা ওই স্কুলে যাওয়ার খবর পেয়ে শিক্ষিকা হাফিজা বেগমের স্বামী রুবেল আহম্মেদ নিজেই তার স্ত্রীর ছুটির আবেদন লিখে বিদ্যালয় থেকে সড়ে পড়েন। এ ছাড়াও তিনি প্রতিদিন স্কুলের হাজিরা খাতায় তার স্ত্রীর স্বাক্ষর তিনি নিজেই দিয়ে আসেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নিশা রাণী বর্মন জানান হাফিজা বেগম নিয়মিত স্কুলে পাঠদান করেন। কিন্তু পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের উপস্থিতিতে হাফিজা বেগম বিদ্যালয়ে না যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষিকা হাফিজা বেগম জানান, আমার সমস্যার কারণে ছুটিতে ছিলাম। মানুষের অনেক শত্রু থাকে, যারা বলেছে আমি টিকমতো স্কুলে আসিনা তারা আমার কথা মিথ্যা বলেছে। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মীর আব্দুল্লাহ জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। খোঁজ নিয়ে দেখবো, ঘটনা সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

দৈনিক অনলাইন পত্রিকা সুনামগঞ্জের আলোয়, গত ১৩ সেপটেম্বর ও ১৬ সেপটেম্বর ২০১৭ ইং তারিখে। বিশ্বম্ভরপুরে ভন্ড কবিরাজ  শাহজালালের প্রতারনার শিকার শতাধিক মানুষ ও বিশ্বম্ভরপুরে প্রতারক ভন্ড কবিরাজ শাহজালালের গ্যারাকলে কয় একটি গ্রামের মানুষ। এই সংবাদটি সমপুর্ণ মিত্যা ও বিত্তিহীন। সরেজমিনে দেখা যায় মাওলানা শাহজালাল হুজুর সমপুর্ণ নির্দোষ। ভুল বসত শাহজালাল হুজুরের নাম লেখা হয়েছিল।

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ধর্মপাশায় ভারতীয় ৯টি গরু আটক

ধর্মপাশায় ভারতীয় ৯টি গরু আটক

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলাধীন ভারতের মেঘালয় পাহাড় সীমান্তবর্তী  এলাকা থেকে  ৯টি ভারতীয় গরু আটক করেছে বিজিবি।
আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ঘিলাগড়া নামকস্থান থেকে বিজিবি’র মাটিয়ারবন  ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ওই গরু গুলি আটক করে।
বিজিবি’র মাটিয়ারবন ক্যাম্পের হাবিলদার মশিউর রহমান জানান, শনিবার দুপুরে চোরাকারবারিরা ভারত থেকে অবৈধভাবে সীমান্তবর্তী ঘিলাগড়া নামক এলাকা দিয়ে বেশ কিছু নিয়ে এসেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা সেখানে অভিযান চালিয়ে ৯টি ভারতীয় গরু আটক করি। তবে আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরা কারবারিরা আগেই সেখান থেকে সটকে পরে। তিনি আরো জানান, আটককৃত গরু গুলি সিজার লিস্ট করার পর রবিবার সকালে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করা হবে।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ২ আহত ১২

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ২ আহত ১২

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের দোয়রাবাজার উপজেলায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে বিএনপি নেতাসহ দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০জন।  শনিবার সকাল বেলা ১২টার চৌমুনা পয়েন্টে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার গোরেশপুর গ্রামের বিএনপি নেতা শেরুজ্জামান ও বেরী গ্রামের মাসুক মিয়ার পক্ষের মধ্যে পৃথক সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহত সেরুজ্জামান দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি গোরেশপুর গ্রামের মৃত উমর আলীর ছেলে। অপর নিহত এবাদুল্লাহ বেরীগাঁও গ্রামের মৃত ফয়জুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের  গোরেশপুর ও বেরীগাঁও গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তজনা চলছিল। গত রমজানে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে গোরেশপুর গ্রামের ছয়ফুল ইসলাম নামের একজনের দাঁত ভাঙে বেরীগাঁও গ্রামের একদল যুবক। প্রতিশোধ স্বরূপ বেরীগাঁও গ্রামের কাওসার নামের এক যুবককে কুপিয়ে আহত করেন গোরেশপুরের লোকজন। এইসব ঘটনার জের ধরে শনিবার বেলা ১২টার দিকে চৌমুনা পয়েন্টে বিএনপি নেতা সেরুজ্জামানকে রামদা দিয়ে কুপায় বেরীগাঁও গ্রামের একদল যুবক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর খবর গ্রামের আসার পর সেরুজ্জামানের উত্তেজিত সমর্থকরা বেরীগাঁওয়ের লোকজনদের সাথে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে এবাদুল্লাহ ঘটনাস্থলে নিহত হন। আহত হন আরও ২০ জন। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক সার্কেলের এ এস পি দোলন মিয়া বলেন, পুর্ব বিরোধের জের ধরে এঘটনা ঘটেছেু।  উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই জন মারা যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।  সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক সার্কেল দোলন মিয়া জানান, উত্তেজনা থামাতে ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।