বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ধর্মপাশা প্রেসক্লাবের শোক প্রকাশ

ধর্মপাশা প্রেসক্লাবের শোক প্রকাশ

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা সদর ইউনিয়নের দশধরী গ্রামের বাসীন্দা মরহুম আব্দুল খালেক চৌধুরী”র জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির নেতা অধ্যাপক ডা.রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর বাতিজা আলী আহসান চৌধুরী বুধবার দিবাগত  রাত নয়টা ৩০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহে রাজিউন । তিনি ধর্মপাশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর স্বাস্থ্য সহকারী পদে কর্মরত ছিলেন ও উপজেলা ননগেজেটেড তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী ক্লাবের সভাপতি ছিলেন ।
তিনির স্ত্রী দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান সহ পরিবার পরিজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী  রেখে যান, মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর, মরহুমের জানাযার নামাজ আজ বেলা ২টা ৩০মিনিটে জনতা মডেল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্টিত হয়ছে । জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয় ।
তাঁর অকাল মৃতে্যুতে এলাকার সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক,সংগঠকের নেতৃবৃন্দ ও ধর্মপাশা প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিক বৃন্দ মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা ও পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন ।

বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

জামালগঞ্জে যুবকের কারাদন্ড

জামালগঞ্জে যুবকের কারাদন্ড

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ইভটিজিং’র দায়ে এক যুবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গল বেলা বার টায় কালীপুর গ্রামের মো: সুরুজ আলীর ছেলে কবির হোসেন (২৫) কে উৎতপ্ত করার দায়ে সাচনা বাজার থেকে গ্রেফতার করে জামালগঞ্জ থানা পুলিশ।
জানাযায়, বেশ কয়েকদিন যাবৎ মাদ্রাসায় ছাত্রীরা আসা যাওয়ার রাস্তায় বখাটে কবির হোসেন (২৫) প্রায়ই মেয়েদের উৎতপ্ত করত। এ ধরনের অভিযোগ থানায় ছিল,পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আনলে মঙ্গল বার টায় দিকে ছাত্রীদের উৎতপ্ত করতে দেখে সাচনা বাজার অটো রিক্সার ষ্টেশন থেকে গ্রেফতার করে তাকে।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যট মনিরুল হাসান (অ:দা:) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ মাসের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করে জেল হাজতে পাঠানোর নিদের্শ দেন তিনি।

মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

জামালগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে স্বাস্থ্য বিভাগের মতবিনিময়

জামালগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে স্বাস্থ্য বিভাগের মতবিনিময়

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মকর্তার মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে।
সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হল রুমে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মনিসর চৌধুরী।
মেডিকেল অফিসার সন্ধিপন সাহার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.প্রিযাংকা পাল চৌধুরী,ডা.নিলাক্ষী শেখর তালুকদার,সাংবাদিকদেও মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোরাম মো.ওয়ালী উল্লাহ সরকার,অঞ্জন পুরকায়স্থ, তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, হাবিবুর রহমান, সাইফ উল্লাহ, আবদুল আহাদ, মো. শাহীন আলাম, বাপ্পী বর্মন প্রমূখ। সভায় স্বাস্থ্য কমপেøেক্্রর বিভিন্ন দপ্তরের কর্মপরিকল্পনার সাথে তাল মিলিয়ে সেবার মান অক্ষন্ন রাখার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগীতা কামনা করেন। গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, জামালগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে পরপর ৩বার শ্রেষ্ট স্থান অধিকার করেছে।আগামীতে যাতে উপজেলা বাসীকে সেবা দিয়ে জামালগঞ্জের সম্মান অক্ষুন্ন রাখার জন্য  চেষ্টা করে যাবেন।
জামালগঞ্জে নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তার যোগদানে মতবিনিময়

জামালগঞ্জে নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তার যোগদানে মতবিনিময়

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাু মো.শামীম আল ইমরান”র যোগদান উপলক্ষে প্রথম কর্মদিবসে মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন-উপজেলা(ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান হাফিজা আক্তার দিপু, পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মু.রশিদ আহমদ,জামালগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান চৌধুরী,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মনিসর চৌধুরী, অফিসার ইনচার্জ মো.আবুল হাসেম, সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম,ফেনারবাক ইউপি চেয়ারম্যান করুনাসিন্ধু তালুকদার, উপজেলা আ”লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী, জামালগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান ভুষন চক্রবর্তী, উপজেলা সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি মো.ওয়ালী উলালাহ সরকার, প্রেসক্লাব সভাপতি অঞ্জন পুরকায়স্থ,সাধারন সম্পাদক তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ,সাংবাদিক আব্দুল আহাদ। অন্যান্যদেও মাঝে উপস্থিত ছিলেন, জামালগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ সাজিব,উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মো.রজব আলী,ভীমখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো.দুলাল মিয়া,বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসিম কুমার তালুকদারসহ উপজেলার সকল বিভাগের কর্মকর্তা সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা বলেন,নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তাও নির্দেশনায় উপজেলার জনপ্রতিনিধি সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম কর্মী ও এলাকার কৃষকদেরকে সাথে নিয়ে আগামী বছরে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল গোলায় তোলতে ও এলাকার আইন শৃংখলার উন্নতিসহ্ উপজেলার সকল পূজামান্ডবে সুন্দর ও সফল ভাবে সর্ম্পন্ন করার জন্য সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বিশ্বম্ভরপুরে প্রতারক ভন্ড কবিরাজ ইসমাহিলের গ্যারাকলে অসহায় মানুষ।

বিশ্বম্ভরপুরে প্রতারক ভন্ড কবিরাজ ইসমাহিলের গ্যারাকলে অসহায় মানুষ।

আজিজুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাধীন ধনপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার মসজিদের ঈমাম, ইসমাইল সে ধীর্ঘ দিন যাবৎ ভন্ড কবিরাজি করে আসছে। এক পর্যায় তার প্রমান পাওয়া গেছে, আক্তাপাড়া গ্রামে কবিরাজি করতে গেলে ভন্ড কবিরাজ ইসমাইল বলেন, এই ঘরের চার কোনায় তাবিজ রয়েছে সেই গুলো জী¡নের মাধ্যমে উঠাতে হবে। তখন যারা ছিলেন সবাই বললেন উঠানোর জন্য, তখন ঐ ভন্ড কবিরাজ ইসমাইল বাটি ছালনার একটি কৌশল করেন। ঐ কৌশলে মানুষের ছোখে ফাঁকি দিয়ে একটি তাবিজ তুলেদেন। সে আরো কৌশলে বলেন বাকি তাবিজ গুলো আজকে উটানো সম্ভব হবেনা আগামীকাল জ্বীন ঢেকে তাবিজ উঠানো হবে। এবং আমাকে (২২০০) টাকা দিতে হবে রোগীর বাড়ির মানুষ সহ সবাই রাজী হয়েছিল এবং (১২০০) টাকা অগ্রীম দিয়েছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষকে সহজেই বুজিয়ে চলে যায়। পরের দিন ঐ ভন্ড কবিরাজ আসতে রাজী হয়নি, অনেকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে দশ মিনিটের মধ্যে আসছি বলে এইরকম প্রতারনা করেন রাত প্রাই (১২) ঘটিকার সময় পর্যন্ত, অপেক্ষা করেন রোগীর বাড়ির মানুষরা। ভন্ড কবিরাজ না আসায় অবশেষে রোগীর বাড়ি থেকে দুইজন মানুষ যাওয়া হয়, ভন্ড কবিরজের মসজিদে, সেখানে গিয়ে অনুরোধ করলে, টাকার বিনিময়ে আসতে রাজি হন ভন্ড কবিরাজ ইসমাইল। ভন্ড কবিরাজ ইসমাইল বলেন। তুলারাশি ছাড়া তাবিজ উঠানো সম্ভবনা,পরে সে আরো,টাকার লোভে রোগীর উপর জ্বীন ভর করেছিল। কিন্তূ মুলত জ্বীন ছিলনা তার বাস্তব প্রমাণ প্রতারক কবিরাজ সে নিজেই রোগীর হাতে তাবিজ তুলে দেন। প্রাণের বাংলাদেশের সরেজমিনে দেখা যায়। যে পুরো বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মানুষ প্রতারনার শিকার হয়েছেন। ঐ ভুক্তভোগিরা বলেন আমাদের কাছ থেকে কবিরাজির জন্য অনেক টাকা নিয়েছে ইসমাইল হুজুর। মূলত কোন উপকার পেলাম না। কবিরাজ ইসমাইল বলেন,আক্তাপারা গ্রামের এই কাজ আমি করেছি, কিন্ত টাকা নেয়নি। তিনি (২২০০) টাকার কথা এরিয়ে যান। বলেন আমি কবিরাজি করার পরে শুধু গাড়ি ভাড়া বাবত তিনশত টাকা দিয়েছে। রোগীর বাড়ির লোকরা
আবারও নৌকার মাঝিঁ হতে চাঁন সাবেক সংসদ সদস্য মতিবুর রহমান।

আবারও নৌকার মাঝিঁ হতে চাঁন সাবেক সংসদ সদস্য মতিবুর রহমান।

আজিজুল ইসলাম (বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ)
 সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাধীন সলুকাবাদ ইউনিয়নের বাঘবেড় বাজারে আয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলন এ সময় মতিবুর রহমান বলেন শেখ হাসিনা সরকার এদেশের উন্নয়নে যে, অবদান রেখেছে আর কোন সরকার এতো উন্নয়ন করতে পারেনি। আগামীতে দেশের উন্নয়নের জন্য আবার নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের একজন। সলুকাবাদ ইউপি বাঘবেড় বাজারে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার বিকেলে বাঘবেড় ইউপি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামলীগের সভাপতি মতিউর রহমান, তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন আজকে আওয়ামীলীগে এসে যারা ক্ষমতা দখল করতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে হবে। আওয়ামীলীগে  কোন দ্বিধা দ্বন্ধ নাই, যারা দলে এসে উস্কানী দিতে চায়, দ্বিধা দ্বন্ধ সৃষ্টি করতে চায় এরা জাতীয় পার্টি এলে জাতীয়পার্টিতে, আ’লীগের সময় আ’লীগে, বিএনপির সময় বিএনপিতে যায়,  আওয়ামীলীগে ঐক্য থাকতে হবে। এরপর তিনি স্বেচ্ছাসেবকলীগের ইউপি অফিস উদ্বোধন করেন। সম্মেলন উদ্বোধন করেন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি মোশারফ হোসেন বাবলু, সভায় সভাপতিত্ব করেন সলুকাবাদ ইউপি স্বেচ্ছাসেবকলীগ আহবায়ক মোহাম্মদ আব্দুল হালিম মাস্টার, যুগ্ন আহবায়ক মহিবুর রহমান মানিকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বেনজির আহমদ মানিক, সুনামগঞ্জ জেলা সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি শোয়েব চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক যু্েবর আহমদ অপু, জেলা যুবলীগ নেতা সবুজ কান্তি দাস, ও আরো অনেক নেত্রী বৃন্ধ প্রমুক উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রাস্তা গুলোর খবর কেউ নিচ্ছে না

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রাস্তা গুলোর খবর কেউ নিচ্ছে না

সুনামগঞ্জের আলো ডেস্ক:

বিশ্বম্বরপুর উপজেলার যে কয়টি রাস্তা রয়েছে তার মধ্যে সলুকাবাদ ইউ/পির চালবন পয়েন্ট থেকে শুরু করে বাঘবেড় বাজার দিয়ে মতুরকান্দি বাজার পর্যন্ত । রাস্তার বেহাল দশা । যেমন সরু তেমন ঘটে দুর্ঘটনা একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটার র্পও শুরু হয়নি উন্নয়নের কাজ । তারই ধারাবাহিক প্রতিবেদন লেকার র্পও নজর দিচ্ছেনা সরকার । যে কারনে লেখা হচ্ছে এই প্রতিবেদন । যেমন একটি গাড়ি চলাচল করলে আরেক টি গাড়ি চলাচল করা একেবারেই
সম্বব না । তার র্পও চলতে হয় এই ইউ/পির অসহায় মানুষদের । কিন্তু কে নিবে এই সাধারন মানুষের খবর । সাধারন মানুষ বলছে নির্বাচন আসলেই অনেকেই বলে রাস্তা গুলো মেরামত করে দিবে এলাকার উন্নয়ন করবে, কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে কেউ রাস্তা গুলোর খবর নেয়না এমন অবিযোগ অনেকেরই আছে। রাস্তা গুলো বিশেষ করে বড় গাড়ি গুলো এসে নষ্ট হচ্ছে । যেমন ছোট টমটম বা সিএনজি চলার মত রাস্তা, আর এখানে চলে বড়বড় গাড়ি যেমন ট্রলি বাস ট্রাক সহ বিভিন্ন প্রকার গাড়ি,  আর এই গাড়ি গুলো কে পাস দিতে হলে নির্ধিষ্ট একটি যায়গায় দাড়িয়ে পাস দিতে হয় । তারর্পও শেষ রক্ষা হয়না উল্টে পরতে হয় রাস্তার বাইরে।

বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রুহিঙ্গা নয় ওরা মানুষ

রুহিঙ্গা নয় ওরা মানুষ


লেখক: জীবন কৃষ্ণ সরকার

লিখাটা এমন এক সময় লিখছি যখন কেবল সারা দেশই নয়, বলা যায় পুরু বিশ্বটাই এখন রুহিঙ্গা ইস্যুতে জড়িয়ে পড়েছে।প্রতি দিনকার খবরের কাগজগুলোই তার প্রমাণ।আর বাংলাদেশ তো এর কেন্দ্র বিন্দুতেই রয়েছে।যাহোক বিবেকের তাড়নায় এতদবিষয়ে আজ দুচারটি কথা আপনাদের শেয়ার করতে বসছি
রুহিঙ্গা কারা?
রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠী পশ্চিম
মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি উলেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। রোহিঙ্গাদের আলাদা ভাষা থাকলেও তা অলিখিত। মায়ানমারের আকিয়াব, রেথেডাং,
বুথিডাং , মংডু, কিয়কতাও, মাম্ব্রা, পাত্তরকিল্লা, কাইউকপাইউ, পুন্যাগুন পাউকতাউ এলাকায় এদের নিরঙ্কুশ বাস। এছাড়া মিনবিয়া, মাইবন আন এলাকায় মিশ্রভাবে বসবাস করে থাকে। বর্তমান ২০১৭ সালে, প্রায় ,০০,০০০ রোহিঙ্গা মায়ানমারে বসবাস করে। মায়ানমার ছাড়াও লক্ষের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এবং প্রায় ৫লাখ সৌদিআরবে বাস করে বলে ধারনা করা হয় যারা বিভিন্ন সময় বার্মা সরকারের নির্যাতনের কারণে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী।
তাহলে ইতিহাস ঘাটলে এটাই প্রমানিত হয় যে এরা মায়ানমারেরই আদি জনগোষ্ঠী।যদিও পরে তারা ইসলাম ধর্মে দ্বীক্ষিত হয়েছে। (তথ্য সূত্র,গুগল,উইকিপিডিয়া)তাই এদের বসবাসের অধিকার বার্মিজরা কেড়ে নিতে পারেনা।এটা মানবতার স্পষ্ট লঙ্ঘন
গত কয়েক দিনের ঘটনা প্রবাহ লক্ষ করলে,দেশি মিডিয়াগুলোর কথা যদি বাদও দেই আন্তর্জাতিক  যেমন বিবিসি,রয়টার্স,ভয়েস অফ অ্যামেরিকা,ইত্যাদি মিডিয়াগুলোর কথাও যদি ধরি তবে একটি বিষয় অন্তত পরিষ্কার হওয়া যায় যে রুহিঙ্গাদের কোন দোষ ত্রুটির জের হিসেবে মায়ানমার এই হত্যা যজ্ঞ চালাচ্ছেনা বরং ওদের জাতিগত নির্মূলের উদ্যেশ্যেই নিরীহ রুহিঙ্গাদের হত্যা করছে বার্মিজ সরকার।এর প্রমাণ মিলাতে আমাদের খুব একটা বেগ পেতে হচ্ছেনা।যেমন- মায়ানমার বলছে সেনা চৌকিতে হামলা করে সেনা হত্যার প্রতিশোধের বদলা নিতেই তারা এমনটি করছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।কারণ গুটি কয়েকজন দোষী ব্যাক্তির জন্য পুরু জাতিকে নির্মূলের প্রক্রিয়া শুরু করা কোন সভ্য ব্যক্তি,সভ্য সমাজ তথা সভ্য জাতি সমর্থণ করতে পারেনা।এটা সম্ভব নয়।একটি সদ্যজাত সন্তান কখনো চেনেনা আরশা (ARSA-ARAKAN
ROHINGYA SALVATION  ARMY) কি, কখনো চেনেনা জঙ্গী হামলা কি? সুতরাং এমন নিঃষ্পাপ সন্তান গুলোকে  হত্যা করার বিধান  পৃথিবীর কোন ধর্মগ্রন্থে লিপি বদ্ধ আছে কিনা আমার জানা নেই।আর শুধু সন্তানই নয় তাদের হাতে দুধের বাচ্ছা থেকে শুরু করে ছেলে বুড়ো , নারী সবাই নির্যাতিত,নিহত হচ্ছে।অতএব এটা নিঃসন্দেহে একটি জগণ্য অপরাধ। আর নিরীহ রুহিঙ্গা হত্যার মধ্য দিয়ে মায়ানমার যে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছে তা বলতে আর বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই।এর প্রমাণ ভুরি ভুরি।যাহোক একটি ছোট্ট প্রমাণ আপনাদেরকে দিচ্ছি
মায়ানমার যেমন বৌদ্ধ রাষ্ট্র,শ্রীলংকাও তেমনি বৌদ্ধ রাষ্ট্র।অথচ শ্রীলংকার জাফনা দ্বীপের স্বাাধীনতা কামী দল LTTE (Leberation of Tamil Elom)  তামিল টাইগার্স বাহিনীর কথা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বুদ্ধাদের  কে না জানে? বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বাধীনতাকামী বিচ্ছিন্যতাবাদী গোষ্টীর মধ্যে তামিল টাইগার্স প্রথমটি।তাদের একটি পৃথক রেডিও ষ্টেশনও ছিল।জাফনায় তাদের জনসমর্থনও ছিল এমন কি বহির্বিশ্বে জনপ্রিয়তাও ছিল।ছিল নিজস্ব দখলকৃত এলাকা,অস্ত্র কারখানা।বলা হয়ে থাকে শ্রীলংকার সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমদাসা (১৯৯৩),ভারতের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রাজীব গান্ধী (১৯৯১) হত্যার মাঝেও তামিল টাইগাররা জড়িত ছিল।কই ? তারা তো প্রতিশোধ নিতে নিরীহ জাফনাবাসীদের হত্যা করেনি।তারা তো কখনো নিরীহ হিন্দুদের দেশ থেকে নির্মূলের পরিকল্পনা করেনিবরং তারা নিয়ম তান্ত্রিকভাবেই তামিল বাহিনীকে পরাস্ত্র করেছিল এবং তাদের নেতা ভেল্লুপিল্লাই প্রভাকরণকে হত্যার (১৮ মে,২০০৯) মধ্য দিয়ে তাদের বিজয় চিনিয়ে নিয়েছিল।তাদেরকে বলা যায় সাবাস।আর রুহিঙ্গাদের আরশা বাহিনীর তো না আছে জনসমর্থন,না আছে দখলকৃত এলাকা,না আছে অস্ত্রের সহজপ্রাপ্যতা তাহলে এমন একটা বাহিনীকে মোকাবিলা করতেই বার্মিজদের  নিরীহ মানুষ হত্যা শুরু করতে হলো? এতে কি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা প্রমানিত হলো না? আর যদি সেটাই না হবে তাহলে নিশ্চই এটা একটা পরিকল্পিত হত্যা কান্ড? আর আজকের এই সভ্য সমাজে একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড কখনোই মেনে নেয়া যায়না।কোথায় জাতিসংঘ,কোথায় আসিয়ান,কোথায় সার্ক,কোথায় ওয়াইসি ? কোথায় মানবতার জিন্দাবতার আমেরিকা? আপনারা একবার এসে দেখে যান রুহিঙ্গাদের বাস্তব পরিনতি
আজকের মায়ানমার ব্যবসা,বানিজ্য,রাজনীতি,অর্থনীতি কোনদিক দিয়েই একেবারে পিছিয়ে নেই।তবে মানবিকতার দিক দিয়ে যে ভিক্ষুকে পরিনত হয়েছে সেটা এখন আর কারো অজানা নয়।আমার এক পরিচিত বড় ভাই আক্ষেপ করেই বললেন-"এর চেয়ে যদি রুহিঙ্গাদের একবারে বোমা মেরে শেষ করে দিত তাইলেও ভাল হতো"এর চেয়ে লজ্জার আর কি থাকতে পারে? কতটুকু মনে কষ্ট পেলে মানুষ এমন ভাবতে পারে তা সময় থাকতে বুঝা উচিত। ৭১ পাকবাহিনীর অত্যাচারের কথা দাদা,দিদির কাছে, শুনেছি,সিনেমা, টেলিফিল্মেও কিছুটা দেখেছি।তবে আমার কাছে মনে হচ্ছে রুহিঙ্গা গনহত্যা যেনো বিশ্বের সকল রেকর্ড ছাড়ালো। বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে পদার্থ বিজ্ঞানের নিউটনের তৃতীয় সূত্রটির কথা মনে পড়ে গেলো।সূত্রটি নিম্নরুপঃ-"প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে" এটা যদি সত্যি হয়(অবশ্যই সত্য) তবে এভাবে গন্যহত্যার পরিনাম পরম স্রষ্টা অবশ্যই আপনাদের দেবেন।খবরে প্রকাশ- লক্ষ রুহিঙ্গা যুবক পাহাড়ে, গুহায়,জঙ্গলে ট্রেণিং নিচ্ছে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য।স্ত্রী,সন্তান,মাতৃ-পিতৃহারা একজন যুবকের এমন প্রতিজ্ঞা হতেই পারে।তাদের স্পৃহা কি বন্দুক কামানে দমানো যাবে? দিকে আলকায়দাও হুমকি দিচ্ছে মায়ানমারকে দেখে নেয়ার।যদিও কোন সন্ত্রাসী সংগঠনের হুমকি আমাদের কারো জন্যই সুখকর নয় তবু এদের হাতে এমন ইস্যু তুলে দেয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ হলো?এতে মায়ানমারের শান্তির বাতাস কি সমান্তরালে চলমান থাকবে? তাই বলা যায় শান্তি কখনো দ্বন্ধ দিয়ে নয় সন্ধি দিয়ে,মিল মহব্বত দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে সৃষ্টি করতে হয়।এই কথাটি যত শীঘ্র বার্মিজরা উপলদ্ধি কতে পারবে ততই মঙ্গল।নতুবা অসময়ে ভোগতে হবে তাদেরকেই

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা ইতোমধ্যেই রুহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন,তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এজন্য সাধুবাদ জানাই।"মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য" ভূপেন হাজারিকার এই কথাটি যদি সত্য হয় তবে আমি বলব "ওরা রুহিঙ্গা নয় ওরা মানুষ"আর তাই এমন  বিপদে অবশ্যই  আমাদের তাদের পাশে  দাঁড়ানো উচিত।তবে অত্যন্ত সতর্কতার সহিত তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ রেখে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে শীঘ্রই রুহিঙ্গাদের তাদের আবাস ভূমে ফিরিয়ে দেয়া উচিত নতুবা অতি আবেগে খাল কেটে কুমীর আনার সমান হয়ে যেতে  পারে।তাই এব্যাপারে দলমতের ঊর্ধে থেকে আমাদের সকলেরই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
পরিশেষে পরম স্রষ্টার কাছে সকল রুহিঙ্গা ভাই-বোনদের মঙ্গল কামনা করছি, সেই সাথে বার্মিজদের শুভ বুদ্ধির উদয় কামনা করছি

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

জামালগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং এর মতবিনিময়

জামালগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং এর মতবিনিময়

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এই শ্লোগান কে সামনে রেখে জামালগঞ্জ থানা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট রেঞ্চ’র উপমহা পুলিশ পরিদর্শক মো: নজরুল ইসলাম বলেন, জনগনের সেবার মহান ব্রত নিয়েই পুলিশ বাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলার কাজ করে যাচ্ছে। পোশাক ধারী ব্যাক্তি যদি কারো কাছে হাত পাতে, তার প্রতি জনগনের সম্মান বোধ থাকেনা। পুলিশকে সহায়তার করার জন্যই জনগনকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি পুলিশিং চালু করা হয়েছে। তিনি সুনামগঞ্জের নৌ-পথে চাঁদাবাজির বিষয়ে বলে গত বছর চাঁদাবাজির ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পরই সরেজমিন এসে এর ব্যবস্থা নিয়েছি। এখনো যদি চাঁদাবাজি হয় শক্ত হাতে দমন করা হবে। জামালগঞ্জকে মাদক মুক্ত উপজেলা গড়তে হবে। তিনি আরো বলেন, যুব-ছাত্র সমাজকে মাদকাসক্ত থেকে বিরত রাখতে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। স্ব-স্ব ধর্মে অনুপ্রানিত থাকলে অপরাধ কর্ম কমে যাবে দেশে আরো সুষ্ঠ ও শান্তি পূর্ণভাবে পরিচালিত হবে, সমৃদ্ধির পথে আমরা আরো এগিয়ে যাবো। উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি করুনা সিন্ধু তালুকদারের সভাপতিত্বে ও জামালগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমান সিদ্দিকী এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ মো: আবুল হাশেম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: বরকত উল্লাহ্ খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন দাস, তাহিরপুর সার্কেল অফিসার কানন কুমার দেবনাথ, জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা আক্তার দিপু, উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তি যোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ, সুনামগঞ্জ জেলা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব রেজাউল করিম শামীম, উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: রজব আলী, সুনামগঞ্জ জেলা কৃষকলীগের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এড.আসাদ উল্লাহ সরকার। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, ব্যবসায়ী পঙ্কজ পাল চৌধুরী, সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি ওয়ালী উল্লাহ সরকার, যুগান্তর প্রতিনিধি ও ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান, আ’লীগ নেতা জামিল আহম্মেদ জুয়েল, সুবোধ তালুকদার, সাবেক ইউপি সদস্য করিব আহম্মদ ও কামরুজ্জামান মন্টু মিয়া, কাশেম আখঞ্জি, ছাত্র জমিয়ত নেতা মো: আলতাফুর রহমান, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। 
ধর্মপাশায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওএমএসের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

ধর্মপাশায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওএমএসের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ওএমএসের তিনজন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল তাদেরকে না জানিয়ে তা তিনি নিজেই উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত অকাল বন্যায় উপজেলার কৃষকের একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর সরকারিভাবে কৃষকদের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই লক্ষে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১১ জন ওএমএসের ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। আর প্রত্যেক ডিলার প্রতিদিন ১৫ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে ৫ কেজি করে ২ শত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষদের মধ্যে চাল বিক্রি করে আসছে। কিন্তু খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ধর্মপাশা উপজেলা উপ-খাদ্য পরিদর্শক) গোলাম কিবরিয়া উপজেলার মধ্যনগর সদর ইউপি’র ডিলার শাখাওয়াত হোসেন, দক্ষিণ বংশিকুন্ডা ইউপির ডিলার রাজু আহম্মেদ ও বংশিকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ওএমএসে ডিলার আব্দুর রাজ্জাক ওই তিন ডিলারের নামে চলতি মাসের ১৪-১৫ তারিখে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খোলা বাজারে বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল ওই তিন ডিলারকে না জানিয়েই তিনি চলতি মাসের ১৩ তারিখে তাদের নামে ব্যাংকে চালান জমা দিয়ে তিনি বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে তা নিজেই আত্মসাত করেন।
গতকাল সোমবার সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে ধর্মপাশা সোণালী ব্যাংকে গিয়ে জানা যায়,খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা চলতি মাসের ১৩ তারিখে তিনি ওএমএস ডিলার আব্দুর রাজ্জাক, রাজু আহম্মেদ ও ডিলার শাখাওয়াত হোসেনের নামে ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর চালান মূলে ওই তিন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলণের জন্য  ৮১ হাজার টাকা তিনি জমা দেন।
এদিকে ওই তিন ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চলতি মাসের ১৪-১৫ তারিখে খোলা বাজারে চাল কিনতে না পারায় তাদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়াতেই তার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পায়না। তিনি এলাকার কালোবাজারিদের সাথেও সখ্য গড়ে তুলেছেন বলেও একাধিক সূত্রে জানা যায়। এমনকি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে একাধিকবার আর্থিক জরিমানাও গুণতে হয়েছে তাকে।
উপজেলার বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওএমএস ডিলার রাজু আহম্মেদ স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, চলতি মাসের ১৪-১৫ তারিখের জন্য আমার নামে বরাদ্দকৃত ২ মেট্রিক টন চালের টাকা ১৩ তারিখে ব্যাংকে জমা না দেয়ার জন্য খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজেই আবার ১৩ তারিখে আমার নামে বরাদ্দকৃত চালের টাকা আমার অগোচরে ব্যাংকে জমা দিয়ে উক্ত চাল উত্তোলণ করে নিয়েছেন। আর এ জন্য দুইদিন খোলাবাজারে চাল বিক্রি করতে না পারায় এলাকার ভূক্তভোগীদের চাপ সামলাতে হচ্ছে আমাকে। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলার মধ্যনগর ইউপির ডিলার শাখাওয়াত হোসেন ও বংশিকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ডিলার আব্দুর রাজ্জাক।
উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া তার বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ৩ জন ডিলারের নামে ১৪-১৫ তারিখে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত ৬ মেট্রিক টন চালের টাকা ধর্মপাশা সোণালী ব্যাংকে জমা দিয়েছি এবং উক্ত চাল আমার গুদামেই রয়েছে। তবে পরিবহনের সমস্যার কারণে ডিলাররা ওই চাল নিতে পারেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাঈমা খন্দকার জানান, বিষয়টি তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  নেয়া হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো.জাকারিয়া মোস্তফার কাছে  মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার পর তদন্তে প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।