মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার
আজ ১২ সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভোগে ২০০৯ সালের এইদিনে তিনি সিলেটের নুরজাহান জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। শাহ আবদুল করিমের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে উজান ধল গ্রামে তাঁর স্ত্রী’র কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম তাঁর গানে জীবন এবং মৃত্যু সম্পর্কে এভাবে বলেন, বাউল আব্দুল করিম বলে / জীবন লীলা সাঙ্গ হলে / শোয়ে থাকব মায়ের কোলে / তাপ-অনুতাপ ভুলে।
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বাউল সম্রাটের একমাত্র পুত্র শাহ নূর জালাল জানান, মঙ্গলবার বাদজোহর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বিকেলে বাউল সম্রাটের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি থাকবেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুজ্জামান পাভেল। এছাড়া বাদ এশা থেকে ফজর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত করিমভক্তরা করিমগীতির আসর বসাবেন।
ভাটির জনপদ দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ধল আশ্রম গ্রামে ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শাহ আবদুল করিম জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ইব্রাহীম আলী ও মা নাইওরজান বিবি। জন্মের পর থেকে অভাবের মধ্যেই আবদুল করিম বেড়ে উঠেন। অভাবের কারণে শিক্ষা লাভের সুযোগ আসেনি তাঁর জীবনে। তাই গ্রামের মোড়লের বাড়িতে রাখালের চাকরি নেন। সারাদিন মাঠে গরু চড়াতেন আর গান গাইতেন। এ গানই রাখাল বালককে বাউল সম্রাটে পরিণত করেছে।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সিলেটে গণসংযোগে আসতেন তখন তাদের সফরসঙ্গী হতেন বাউল আবদুল করিম। শাহ আবদুল করিম ৫৪’র নির্বাচন, ’৬৯-এর গণআন্দোলন, ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি পর্যায়ে স্বরচিত গণসংগীত পরিবেশন করে জনতাকে দেশ মাতৃকার টানে উদ্বুদ্ধ করতেন। তাঁর গণসংগীতে মুগ্ধ হয়ে মাওলানা আব্দুল হামিদ থান ভাসানী তাঁর পিঠে হাত রেখে বলেছিলেন- বেটা, গানের একাগ্রতা ছাড়িও না, তুমি একদিন গণমানুষের শিল্পী হবে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণসংগীত শুনে ১৮৫ টাকা দেন, শেখ মুজিব ১১ টাকা দিয়ে বলেন, তোমার মতো শিল্পীকে উপযুক্ত মর্যাদা দেয়া হবে।
শাহ আবদুল করিমের গানের বিভিন্ন বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় আফতাব সংগীত, ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয় গণসংগীত, ১৯৮১ সালে কালনীর ঢেউ, ১৯৯০ সালে ধলমেলা, ১৯৯৮ সালে ভাটির চিঠি, ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় শাহ আব্দুল করিম রচনাসমগ্র।


শেয়ার করুন

0 Comments: