বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

শাল্লায় কোচিং বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মিটিং

সেলিম আহম্মেদ স্টাফ রিপোর্টার::
স্কুল চলাকালীন সময়ে স্পেশাল ক্লাসে’র নামে কোচিং বাণিজ্যের সংবাদ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশের জের ধরে স্কুলের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা আনন্দপুর গ্রামে এক মিটিংয়ের আয়োজন করেছে। কিসের মিটিং সাধারণ মানুষের এমন প্রশ্নে আমন্ত্রণকারী ব্যক্তি বলেছে পূঁজার মিটিং। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি সাংবাদ প্রকাশের জেরে স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ এ মিটিংয়ের আয়োজন করেছে। তবে শিক্ষকরা বলছেন তারা কোচিং বাণিজ্য বা স্পেশাল ক্লাস করাননি। ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পপি দাস বলেন, পইলা স্কুলে ১০টার সময় আমাদের ক্লাসের ৭জনকে পড়াতো। পরে সকাল ১০টায় গোপাল কাকু ওরফে গোপাল রায় দপ্তরীর ঘরে তাদের পড়াতে দেখেছি।

৫ম শ্রেণির পপি রাণী দাস, ৪র্থ শ্রেণির সৈকত চন্দ্র দাস, ১ম শ্রেণির অন্ত দাস, ইমরানা আক্তার, ২য় শ্রেণির চৈতী দাস, সুজিত রায় ও আরমানসহ অনেকই জানায় গোপাল কাকু ওরফে গোপাল রায় (দপ্তরী) তাদের পড়ায়। তারা আরো জানায়, এখন আর পড়ায় না। ৪র্থ শ্রেণির সৈকত দাস বলে, আমারে দিয়া বড় স্যার দোকান থাইক্যা পান আনায়। আর আমাদের ক্লাসে পড়া দিয়া বড় স্যার চিয়ারে খালি ঘুমায়। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় কিনা এমন প্রশ্নে পপি রাণী দাস জানায়, একমাস পরে পরে গাওয়ায়। ঘুঙ্গিয়ারগাঁও থাইক্যা বড় স্যার আইলে বেত লুকাইয়া রাখে। আমরারে কয় তোমরা কেউ কইও না। পপি ইংরেজি রিডিং পড়তে পারে না। শিক্ষক তোমাদের ইংরেজি রিডিং পড়ায় কিনা এমন প্রশ্নে পপি বলে পড়ায় না।

এবিষয়ে আঙ্গারুয়া সপ্রাবি’র ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলার শ্রেষ্ঠ সভাপতি পিসি দাশ পীযূষের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, স্কুল চলাকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক যদি ওই বিদ্যালয়ের অন্তর্ভূক্ত গোটা কয়েক ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ান, সেটি অবাঞ্ছনীয়, অনুচিত ও সমুচীন নয় বলে জানান।

এবিষয়ে ওই গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রয়াত উমেশ চক্রবর্তীর ছেলে সমাজ সেবক বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, মিটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়েছি। আমার সমস্যা আছে তাই আমি যাইনি। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার সুব্রত সরকার বলেন, স্কুলে মিটিংয়ের নিমন্ত্রণ পেয়েছি। তবে আমি উপস্থিত থাকতে পারবো কি না ঠিক নেই। ওই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার কালাই মিয়াও বলেছেন আমারও সময় নাই। তাছাড়া শাল্লা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কালীপদ রায় বলেন, কোচিং তো সরকার আইন করেই বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ সকল শিক্ষকগণ যাতে শ্রেণিকক্ষেই সমূহ পাঠদান করান এবং সকল শিক্ষার্থীর প্রতি সমভাবে যতœবান হন। কিন্তু শিক্ষকগণ যদি ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের সন্তানদের আলাদাভাবে পাঠদান করান তাহলে গরীব শিক্ষার্থীদের প্রতি বিরূপ আচরণ করা হবে। পাশাপাশি সরকারের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন দূরহ হয়ে পড়বে। তাই শিক্ষকদের এমন আচরণ আমি আদৌ আশা করি না। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গ্রামে গোটা কয়েকজনের ডাকা মিটিংয়ের খবর পেয়ে উপজেলার সাংবাদিকবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এব্যাপারে সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ দৈনিক সুনামগঞ্জের আলোর স্টাফ রিপোর্টার সেলিম আহম্মেদকে জানান, স্কুল চলাকালীন সময়ে বাছাই করে আলাদাভাবে ক্লাশ করার কোনো নিয়ম নেই। বরং যারা দূর্বল সেসব ছাত্র/ছাত্রীদের ক্ষেত্রে বিশেষ যতœবান হওয়া শিক্ষকের দায়িত্ব।


শেয়ার করুন

0 Comments: